ভ্রমণবন্ধু

নরসিংদী; প্রাচীন দুর্গ নগর - Hosted By

Not review yet
3
Add Review Viewed - 289

বাংলাদেশের মধ্যভাগের একটি জেলা নরসিংদী। এই জেলা ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। পূর্বে প্রশাসনিকভাবে ঢাকা জেলাধীন নারায়নগঞ্জ মহকুমার একটি থানা ছিল নরসিংদী। পরে ১৯৭৭ সালে ঢাকা জেলার একটি মহকুমায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৮৪ সালে ৬টি উপজেলা এবং নরসিংদী পৌরসভা নিয়ে নরসিংদীকে জেলা ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার।

অনেক পূর্বে এই এলাকাটি নরসিংহ নামক রাজার শাসনাধীন ছিল। ইতিহাসবিদেরা বলে থাকেন, পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে রাজা নরসিংহ, নরসিংহপুর নামে একটি ছোট নগর স্থাপন করেন। আর নরসিংদী নামটি রাজা নরসিংহের নাম অনুসারেই এসেছে বলে সবাই মনে করেন।

অর্থনৈতিক দিক দিয়ে নরসিংদী জেলা অনেক আগে থেকেই সমৃদ্ধ। তাঁত শিল্প এ জেলার প্রধান হাতিয়ার বলা যায়। এই জেলার মাধবদীতে কাপড় উৎপাদন করা হয়। মাধবদী এলাকার মানুষদের প্রথম ব্যবসা কাপড় উৎপাদন করা। সব ধরনের কাপড় এখানে উৎপাদন করা হয়। নরসিংদী জেলার বাবুরহাট বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ পাইকারি কাপড়ের বাজার। আমাদের দেশের সব জেলার মানুষ এখান থেকে পাইকারি কাপড় কিনে নিয়ে যায়। আর এখানকার কাপড় দেশের বাইরেও রপ্তানি হয়ে থাকে।

আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর হিসেবে আলোচিত নরসিংদীর বেলাব উপজেলার উয়ারী-বটেশ্বর গ্রামে পরিত্যক্ত ভিটা ও অসমরাজার গড় আবিস্কৃত হয়েছে। এটি নব্য প্রস্তর যুগের সভ্যতার নিদর্শন প্রদর্শন করে। এই ওয়ারীতে খৃষ্টপূর্বকালের ছাপাঙ্কিত বেশ কিছু রৌপ্যমুদ্রাও পাওয়া গেছে। এসব মুদ্রা নরসিংদী এলাকার আদি সভ্যতার ইঙ্গিত বহন করে। আবার নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ‘জয়মঙ্গল’ নামে পাহাড়ী গ্রামে আবিস্কৃত হয়েছে গুপ্তযুগের স্বর্ণমুদ্রা। একই উপজেলার অন্য স্থান আশ্রাফপুরে আবিস্কৃত হয়েছে মহারাজা দেব খড়গের তাম্রলিপি এবং অষ্টধাতুর নির্মিত বৌদ্ধ নিবেদন স্ত্তপ।

এই জেলায় বেশ কিছু প্রাচীন মসজিদ ও মাজার রয়েছে। আস্রাফপুরে আবিস্কৃত হয়েছে গৌড়ের সুলতান নাসির উদ্দিন নসরৎ শাহের রাজত্বকালে নির্মিত একটি অতি প্রাচীন মসজিদ। পলাশ উপজেলার পারুলিয়া গ্রামে রয়েছে দেওয়ান শরীফ ও তার স্ত্রী জয়নব বিবি নির্মিত মোগল স্থাপত্যরীতির একটি মসজিদ। নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের কাছেই পশ্চিমদিকে তরোয়া গ্রামে হযরত কাবুল শাহের মাজার, পাটুলী ইউনিয়নের হযরত শাহ ইরানী মাজার, কুমরাদী গ্রামে হযরত শাহ মনসুরের মাজার, পারুলিয়া দেওয়ান সাহেবের মাজার এবং ওয়ারী গ্রামে হযরত সোলায়মানের মাজার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এই জেলায় ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের জন্য বেশ কিছু দর্শনীয় স্থানও রয়েছে। উয়ারী-বটেশ্বর, বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, সোনাইমুড়ি টেক, ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাস্তুভিটা, আশরিনগর মিনি পার্ক, ড্রীম হলিডে পার্ক, ঘোড়াশাল মিঞা বাড়ি, ঘোড়াশাল দোতলা রেলওয়ে স্টেশন (যা বাংলাদেশের প্রথম দ্বিতলবিশিষ্ট রেলওয়ে স্টেশন), চরসিন্দুর ব্রিজ, বালাপুর জমিদার বাড়ি। এছাড়াও নরসিংদীর ডাংগা গ্রামে ৩টি জমিদার বাড়ী রয়েছে:

১) লক্ষন সাহা (এটি কারুকার্জের দিক থেকে সবচেয়ে সুন্দর। এই জমিদারবাড়ির একটি অংশ কিনে নেন আহম্মদ আলী নামের একজন আইনজীবী। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে এখন জমিদার লক্ষ্মণ সাহার বাড়িকে সবাই উকিলবাড়ি হিসেবেই চেনে।)

২) সুদান সাহা (বাড়িও অনেক দৃষ্টিনন্দন ও কারুকার্যময়। সুদান সাহার বাড়ি যে কেউ একবার দেখলে মুগ্ধ হবে। এ বাড়ির সামনেও রয়েছে পুকুর, শানবাঁধানো পুকুর ঘাট। সামনে খোলা জায়গা।)

৩) কুন্ডু সাহা (জমিদার লক্ষ্মণ সাহার বাড়ি থেকে অল্প দূরে রয়েছে আরেকটি পুরোনো বাড়ি। বাড়িটিকে সবাই কুণ্ডু সাহার বাড়ি হিসেবে চিনে যেটি বর্তমানে পরিত্যক্ত কিন্তু আয়তনে জমিদার লক্ষ্মণ সাহার এবং সুদান সাহার বাড়ি অপেক্ষায় অনেক বড়। কুণ্ডু সাহার বাড়িতে বর্তমানে কেউ বসবাস করে না।)

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password