ভ্রমণবন্ধু

মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 217

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার এক নিভৃত পল্লী নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রাম। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল, ঊনবিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম সাহিত্যিক, কালজ্বয়ী উপন্যাস “বিষাদ সিন্ধু” রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের সমাধিস্থলকে ঘিরে এ গ্রামটি এখন অনেকেরই চেনা।

১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর তৎকালীন বৃটিশ ভারতে (বর্তমান বাংলাদেশ) কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মীর মশাররফ হোসেন। তার পিতার নাম ছিল মীর মোয়াজ্জ্বেম হোসেন এবং মাতার নাম দৌলতন নেছা।

কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করলেও তার জীবনের প্রায় পুরো সময় অতিবাহিত হয়েছে পৈতৃক নিবাস রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে। এখানেই মীর মশাররফ হোসেন তার জীবনের উল্লেখযোগ্য কাব্য, উপাখ্যান, উপন্যাস, নাটক, আত্মজীবনী, অনুবাদ ও প্রবন্ধ রচনা করেন। ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর পদমদীতেই কালজয়ী এই সাহিত্যিক মারা যান। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে বিবি কুলসুমের সমাধির পশ্চিম পাশে সমাহিত করা হয়।

১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে এক একর ৮৪ শতাংশ জমির ওপরে ২ কোটি ৪৮ লাখ ৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র। সম্ভাবনাময় এই স্মৃতিকেন্দ্রটি এখন ভ্রমণপ্রিয় মানুষের অন্যতম গন্তব্যস্থান।

গদ্য, পদ্য, নাটক, নভেলে মীর মশাররফ হোসেন প্রায় ৩৭টি গ্রন্থ রচনা করেন। তার গদ্যরীতি ছিল বিশুদ্ধ বাংলা, যা তদানীন্তনকালে অনেক বিখ্যাত হিন্দু লেখকও লিখতে পারেননি। তবে তার পদ্যনীতি প্রায় সবই অনুকৃতি ও কষ্টকল্প রচনা বলে কোনো সমাদার পায়নি। তিনি ‘জমিদার দর্পন’ নাটক লিখে তদানীন্তনকালে অন্যতম শ্রেষ্ট নাট্যকারের মর্যদা লাভ করেন।

মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃত মীর মশাররফ হোসেন বিশুদ্ধ বাংলায় অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করে আরবী-ফারসী মিশ্রিত তথাকথিত মুসলমানী বাংলা ভাষা পরিত্যাগ করেছিলেন। তার সর্বশ্রেষ্ট গ্রন্থ ‘বিষাদ সিন্ধু’ বাংলার মুসলমান সমাজে ধর্মগ্রন্থের মত শ্রদ্ধর সঙ্গে আজও পঠিত হয়। কারবালার করুণ ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে রচিত এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। মীর মশাররফ হোসেনের অপর গ্রন্থগুলি বাদ দিলেও এই একটি গ্রন্থ রচনার জন্য তাকে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ লেখক আখ্যায়িত করা যায়।

তার সাহিত্যের প্রায় অর্ধেকই কাব্য হলেও তিনি কবি খ্যাতি লাভ করতে পারেননি। মীর মশাররফ হোসেন তার যুগের দাবী মিটাতে পারেননি। সে চেষ্টা ও মানসিকতা তার ছিল না। তবু তিনিই প্রথম মুসলমানদের জন্য সার্থক সাহিত্য রচনা করেছিলেন একথা অস্বীকার করা যায় না। বাংলা সাহিত্যে মুসলিম কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে মীর মশাররফ হোসেনের নাম শীর্ষদেশে অম্লান হয়ে আছে একথা যেমন সত্য, তেমনি সমগ্র বাংলা সাহিত্যেও তিনি একজন শ্রেষ্ট সাহিত্যিক ছিলেন একথাও অনস্বীকার্য।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password