ভ্রমণবন্ধু

প্রাচীন নগর ‘কলাকোপা-বান্দুরা’ - Hosted By

Not review yet
3
Add Review Viewed - 385

ইতিহাস আর ঐতিহ্যের বিশাল এক ভাণ্ডার কলাকোপা ও বান্দুরা। উনিশ শতকেও এখানে জমিদারদের বসতি ছিল। প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাস সমৃদ্ধ গ্রাম এই কলাকোপা-বান্দুরা। একসময় এটি ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের তীর্থস্থান। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখ জুড়ানোর মতো। ভ্রমণপ্রিয় মানুষেরা একটু সময় পেলেই ঘুরে আসতে পারেন ইতিহাস সমৃদ্ধ এই প্রাচীন নগর থেকে।

নবাবগঞ্জের মহাকবি কায়কোবাদ চত্বর থেকে একটি সড়ক সোজা কলাকোপা চলে গেছে। এখানে দেখার অনেক কিছু আছে। অন্য সড়কটি একটু বামে কলাকোপা হয়ে বান্দুরার পথ ধরেছে। বামের এই পথ ধরে একটু সামনে এগোলেই একটি ভাঙা মন্দিরের দেখা মিলবে। ছোট দুটি স্তম্ভ আর পাথর খোদাই করে তৈরি একটি কৃষ্ণ মূর্তির মন্দির এর সম্বল। বসার জায়গা কালের পরিক্রমাই একটু দেবে গেছে। মূর্তির মাথাটা ভেঙে গেছে।

মন্দিরের পেছনে কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ি। ভাঙা মন্দিরের মতোই ভগ্ন দশা তার। কোনো রকমে দাঁড়িয়ে থেকে তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে চলেছে। এর নির্মাণ শৈলি অসাধারণ। এখন ৮টি শিক্ষক পরিবারের বাসস্থান। সামনেই কোকিলপেয়ারী স্কুলের শিক্ষকরা সপরিবারে এখানে থাকেন। বাইরে থেকে দেখা ছাড়া ভেতরে যাওয়ার অবকাশ নেই।

এছাড়া কলাকোপার উকিল বাড়িরও বেশ নাম রয়েছে। এ বাড়িটি হাশেম উকিলের বাড়ি নামে বেশি পরিচিত। নিচতলাতে থাকেন ২ ভাড়াটে। আর দোতলাতে উকিল সাহেব নিজেই থাকেন। ওখানে একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারও রয়েছে।

উকিল বাড়ির পাশেই কলাকোপার বিখ্যাত জমিদার ব্রজেন সাহার ব্রজ নিকেতন। আশির দশকের পর এক বিচারক পরিবার এখানে বসবাস শুরু করলে ব্রজ নিকেতন জজ বাড়ি নাম ধারণ করে। জজ বাড়ি এখন কলাকোপা-বান্দুরার প্রাণ। জজ সাহেবরা ৯ ভাই-বোন। তাদের মা রত্নগর্ভা হিসেবে স্বর্ণ পুরস্কার প্রাপ্ত। বাড়ির এক কর্ণারে ৯টি হরিণের বাস। চমৎকার বাধাই করা পুকুর পাড়। অসাধারণ নির্মাণ শৈলি। কিন্তু একটু সংরক্ষিত; জজ সাহেবরা থাকলে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয় না।

তবে আনসার ক্যাম্পের অনুমতি (আইডি কার্ড থাকলে ভালো) নিয়ে ওদের পুরোনো বাড়িগুলো দেখতে এবং নদীর ঘাটলায় গোসল করতে পারবেন। দল ভারি না হলে মেয়েদের নিয়ে পরিত্যাক্ত ভবনের দিকে না যাওয়ায় ভালো।

আরো দেখতে পাবেন খেলারাম দাতার বাড়ি বা আন্ধার কোঠা। এর স্থাপনাটা একটু ভিন্ন। খেলারাম দাতার আসল নাম খেলারাম খাঁ। অনেকের কাছে আঁন্ধার কোঠা নামেও পরিচিত। বছর খানেক আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর মেরামত করেছেন। পাশাপাশি একজন তত্ত্বাবধায়কও নিয়োগ করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়কের অনুমতি ছাড়া ভেতরে যাওয়া যাবে না, বাইরে থেকে দেখে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

এরপর ফুলতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে একটু সামনে গেলেই নবাবগঞ্জের বান্দুরা গ্রাম। এখানে প্রথমেই চোখে পড়বে হলিক্রস স্কুল। একটু সামনে এগোলে বিশাল মাঠ পেরুলে পাওয়া যাবে জপমালা রানির গির্জা। এলাকার নাম হাসনাবাদ হওয়ায় স্থানীয়রা গির্জাটিকে হাসনাবাদ গির্জা বলে। গির্জাটি ১৭৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। রোববার ছাড়া ভেতরে ঢোকা যাবে না। গির্জার পাশেই বিশাল সেমিট্রি। গির্জার সামনে বেশ কটি ভাস্কর্য রয়েছে। তারও সামনে বিশাল মাঠ। হাসনাবাদ গির্জার পাশেই ছায়া ঘেরা বেশ কয়েকটি বাড়ি। পুরো এলাকা গাছ-গাছালিতে ঘেরা। গির্জার সামনেই জপমালারানীর নামাঙ্কিত ফলক তার স্মৃতি ধরে রেখেছে।

বান্দুরা গ্রামে আরো দেখতে পাবেন ভাঙা মসজিদ। মসজিদটিকে অনেকেই গায়েবী মসজিদও বলেন। স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, এ মসজিদের সামনের অংশ একরাতে গায়েবীভাবে হয়েছে। ২৪ লাখ টাকা খরচে মসজিদের নতুন একটা মিনার করা হয়েছে। এখানে মানতের ছড়াছড়ি।

Listing Features

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password