ভ্রমণবন্ধু

কিশোরগঞ্জ; মোহনীয় রূপ বৈচিত্রের জেলা - Hosted By

Not review yet
3
Add Review Viewed - 273

ইতিহাস জাতির দর্পনস্বরূপ। এই ইতিহাসের মাধ্যমেই একটি জাতি তার প্রকৃত রূপ এবং প্রকৃতি দেখে থাকে। প্রকৃত ইতিহাসের মাধ্যমেই একটি জাতি তার জন্মভূমি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারে। তেমনিভাবে আমাদের দেশের কিশোরগঞ্জ জেলার ইতিহাস সুদীর্ঘ ও তার ঐতিহ্য ব্যাপকভাবে প্রসারিত।

প্রশাসনিক পরিসরে কিশোরগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম জেলা হিসেবে পরিচিত। গ্রাম বাংলার মোহনীয় রূপ বৈচিত্র আর সোনালী ঐতিহ্যের ধারায় কিশোরগঞ্জ জেলার ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ১৭৮৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের এক সময়কার বৃহত্তম জেলা ময়মনসিংহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলা তখনকার ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিচ্ছিন্নভাবে প্রাপ্ত ইতিহাস থেকে জানা যায়, মহাকাব্যের যুগে এ অঞ্চল কামরূপ রাজ্যের ভেতর ছিল। পরে গুপ্ত, বর্মন, পাল ও সেন বংশ পর্যায়ক্রমে রাজত্ব করে এই এলাকা। তবে মধ্যযুগে আলাউদ্দিন হোসেন শাহের সময়ে এই অঞ্চলে মুসলিম শাসন বিস্তার লাভ করে। সম্রাট আকবরের সময় গোটা কিশোরগঞ্জ অঞ্চল মুসলিম শাসনের অধীনে আসে।

১৮৬০ সালে প্রথম সৃষ্টি হয় কিশোরগঞ্জ মহকুমার। সে সময় এই মহকুমায় ছিল তিনটি থানা। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৪ সালে ১৩টি থানা নিয়ে গঠিত হয় কিশোরগঞ্জ জেলা।

কিশোরগঞ্জের অর্থনীতি কিসের উপর নির্ভরশীল সে ব্যাপারে বলতে গেলে হাওরের কথাই বলতে হয়। এখানকার হাওরগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়। এজন্য এ জেলার ব্র্যান্ড নাম দেয়া হয়েছে “হাওর বাওর মাছে ভরা, কিশোরগঞ্জের পনির দেশসেরা”। মাছ ছাড়াও এখানে ধান, পাট ও নানান জাতের সবজি উৎপাদন হয়, যা জেলার বাইরেও রপ্তানি করা হয়।

আরো একটি কারনে এই জেলা স্বনামে খ্যাত। সেটি হলো শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। এই ঈদগাহ মাঠের নামকরণের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি জনশ্রুতি রয়েছে। তা হলো, অনেক আগে এ মাঠে ঈদের জামাতে জামাতির সংখ্যা হয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়া লাখ। এই সোয়া লাখ থেকেই উচ্চারণ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান শোলাকিয়ার নামকরণ হয়েছে। আরেকটি জনশ্রুতি হচ্ছে, মোগল আমলে এখানে পরগনার রাজস্ব আদায়ের একটি অফিস ছিল। যার আদায় করা রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়া লাখ টাকা। এটা থেকেও শোলাকিয়া নামকরণ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ঐতিহ্যবাহি এ মাঠে সবসময় খ্যতিসম্পন্ন আলেমগণ ইমামতি করে থাকেন।

ইতিহাস অনেক দীর্ঘ ও প্রাচীন হওয়ার সুবাদে এখানে বেশ কিছু পুরাকীর্তি স্থাপনা রয়েছে। সেগুলো হলো ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী ঐতিহাসিক জঙ্গলবাড়ী দূর্গ, ঈশা-খাঁর ঐতিহাসিক এগারসিন্ধুর দূর্গ, কবি চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির ও মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে প্রতিষ্ঠিত দিল্লীর আখড়া। এগুলোকে এ জেলার দর্শনীয় স্থানও বলা যায়। জেলার পুরাকীর্তি স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ প্রিয় মানুষদের মুগ্ধ করে থাকে।

Listing Features

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password