ভ্রমণবন্ধু

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান - Hosted By

Not review yet
3
Add Review Viewed - 192

উপমহাদেশের যে কটি প্রাচীন উদ্যান আছে তার মধ্যে অন্যতম কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান। এটি বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ৫ হাজার ৪৬৪ হেক্টর জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় উদ্যানটি।

এই উদ্যানে ১৮৭৩, ১৮৭৮ এবং ১৮৭৯ সালে বৃক্ষায়ন করা হয়েছিল। তারই ফলশ্রুতিতে এখানে গড়ে উঠেছিল একটি ক্রান্তীয় বর্ষাবন বা রেইন ফরেস্ট। পাহাড়ে ঘেরা নয়নাভিরাম সবুজ বন, এঁকেবেঁকে বয়ে চলা কর্ণফুলী নদী, কাপ্তাই হ্রদ এ উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ। প্রাকৃতিক অনাবিল সৌন্দর্যের কারণে এ উদ্যানটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। নানা রকম গাছপালা সমৃদ্ধ এ উদ্যানে আছে- সেগুন, চাপালিশ, জারুল, চম্পা, সোনালু, চালতা, চিকরাশি, শাল, শিলকড়ই, ধারমারা, গামারি, অর্জুন, আমলকি, আমড়া, বহেরা, বাজনা, বড়ই, পিটরাজ, পিটাল, বৈলাম, নাগেশ্বর, হিজল, উদল, উরিয়া, লোহাকাঠ ইত্যাদি। বড় বড় বৃক্ষ ছাড়াও এখানে রয়েছে বুনো অর্কিড ও নানা প্রজাতির লতাগুল্ম। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ।

বন্যপ্রাণীদের জন্য কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান অন্যতম আবাসস্থল। এখানে রয়েছে- বন্যহাতি, হরিণ, বানর, হনুমান, উল্লুক, শুকর, বনবিড়াল, গুইশাপ, অজগর ইত্যাদি। বর্তমানে প্রায়ই এ বনে বন্যহাতির দেখা মিলছে। দলবেঁধে হাতিরা বনের ভেতরে ঘুরে বেড়ায় অবাধে। বেশকিছু দুর্লভ প্রজাতির ব্যাঙেরও দেখা মেলে এখানে।

ঋতু ভেদে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে এ মিশ্র চিরসবুজ বন। ধনেশ, ফিঙ্গে, বুলবুলি, কাঠময়ূর, বনমোরগ, ময়না, ঘুঘু, টিয়া, মাছারাঙ্গাসহ নানান ধরনের পাখির দেখা মিলবে গাছের ডালে, ঝোপের আড়ালে। তবে তাদের দেখতে চাইলে ঠোঁটে কুলুপ এঁটে চলতে হবে বনের পথে।

বন এলাকা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণস্থান আর পায়েহাঁটা পথ তৈরি করা হয়েছে এ বনে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও উল্লেখযোগ্য পথটি হল ব্যাঙছড়ির মাঝারি বনপথ। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের ব্যাঙছড়ি মারমাপাড়া থেকে শুরু হওয়া বনের ভেতর পথটির দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটারের একটু কম। এ পথেই জীববৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি। রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং টাওয়ার। উঁচুনিচু পাহাড়ি এ পথে আরো আছে ছোটবড় কয়েকটি ঝর্ণা।

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান এলাকায় আছে মারমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের দু’টি গ্রাম। একটি ব্যাঙছড়ি মারমাপাড়া অন্যটি চিৎমুরং বড়পাড়া। এসব গ্রামে দেখতে পাবেন তাদের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা। তবে গ্রামে প্রবেশের আগে অবশ্যই কারবারি বা হেডম্যানের অনুমতি নিয়ে নিতে হয়।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন কিংবা আকাশপথে চট্টগ্রাম আসতে হবে। এখানে বহদ্দারহাট বাস স্টেশন থেকে পনের মিনিট পরপর বাস ছেড়ে যায় কাপ্তাই এর উদ্দেশ্যে। পৌঁছাতে সময় লাগে দেড়-দুই ঘণ্টা। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি কাপ্তাই যায় ডলফিন, সৌদিয়া, এস আলম, শ্যামলী পরিবহনের বাস। ঢাকার কলাবাগান, ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে এসব বাস ছেড়ে যায়।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password