ভ্রমণবন্ধু

ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি দূর্গ - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 278

মসনদে-আলা-বীর ঈশা খাঁ ছিলেন বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী বারোজন জমিদারদের প্রধান। ঈশা-খাঁ এবং বারো জন জমিদার একসাথে বাংলায় স্বাধীনভাবে জমিদারী স্থাপন করে। তার মূল বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনাগাঁওয়ে অবস্থিত। এছাড়াও তার আরো একটি ঘাঁটি ছিল কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়িতে। এটি বর্তমানে ‘ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি দূর্গ’ নামে পরিচিত। জঙ্গলবাড়িটি ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবেও প্রচলিত।

বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলাধীন কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ি গ্রামে নরসুন্দা নদীর তীরে দূর্গটির অবস্থান।

দূর্গটিতে বর্তমানে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ইটের প্রাচীর দিয়ে ভাগ করা দু’টি চত্বর রয়েছে। এটি ‘প্রাসাদ প্রাচীর’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ দিকে একটি তোরণ আছে। তোরণটির সামনের দিকে ‘করাচি’ নামে একটি পূর্বমূখী একতলা ভবন রয়েছে। তোরণের পিছনে ‘অন্দর মহল’ নামে এক তলা দক্ষিণ মুখী একটি ভবন রয়েছে। পুরো ইটের দেয়াল চুনকামসহ লেপন দিয়ে ঢাকা। দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর দিকে গভীর পরিখা খনন করা আছে। পরিখাটিকে পূর্বদিকে নরসুন্দা নদীর সাথে সংযুক্ত করা হয়।

বাড়ির সামনে ঈশা খাঁর সময়ের খনন করা একটি দীঘি আছে। তার পাশেই আছে একটি তিনগম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। ধারণা করা হয়, ঈশা খাঁই মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদটিতে রয়েছে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর ছাপ। মসজিদের পাশেই ঈশা খাঁর বংশধরদের বাঁধানো কবর রয়েছে। ২০০৫ সালের ১২ জুন দূর্গের ভিতরের দরবারগৃহটি সংস্কার করে স্থানীয় প্রশাসন ‘ঈশা খাঁ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার’ স্থাপন করে। সেখানে ঈশা খাঁর বিভিন্ন ছবি, তার বংশধরদের তালিকা এবং বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ঈশা খাঁর আদি নিবাস আফগানিস্থান। মুঘল ও ইংরেজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাংলার জমিদারগণ তাকে গোয়েন্দা মারফতে বাংলায় আসার সংবাদ পাঠালে তিনি ১ হাজার ৪০০ ঘোড়সওয়ার, ২১টি নৌবিহার ও গোলাবারুদ নিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যে পৌঁছান। ১৫৮৫ সালে তৎকালীন কোচ রাজা লক্ষ্মণ হাজরা ও রাম হাজরাকে পরাজিত করে জঙ্গলবাড়ি দূর্গ দখল করেন। কোচ রাজা লক্ষ্মণ হাজরা বা ঈশা খাঁর কেউ এই দূর্গের স্থপতি নয়। এটি প্রাক-মুসলিম যুগে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়।

তবে ঈশা খাঁ দূর্গ দখল করার পর এর ভিতরে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করেন। এই দুর্গ থেকে পরে তিনি একে একে সোনারগাঁওসহ মোট ২২টি পরগণা দখল করেন। ১৫৯৭ সালে তিনি পাকুন্দিয়ার এগারসিন্দুরে মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংকে পরাজিত করেন।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে ট্রেন অথবা বাসে করে কিশোরগঞ্জে যাওয়া যায়। কমলাপুর অথবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এগারোসিন্ধুর ট্রেনে উঠলে ১১টার মধ্যে কিশোরগঞ্জে পৌছেঁ যাবেন। তারপর ইজিবাইক দিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থ একরামপুর মোড়ে। সেখান থেকে সিএনজি, রিক্সা বা ইজিবাইকে করে সহজেই চলে যাওয়া যায় ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি দূর্গতে।

আর বাসে যেতে চাইলে মহাখালী বা গোলাপবাগ বাস স্ট্যান্ড থেকে কিশোরগঞ্জগামী যেকোনো বাসে করে কিশোরগঞ্জের বাস টার্মিনাল যেতে হবে। সেখান থেকে রিক্সা বা ইজিবাইক দিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থ একরামপুর মোড়। সেখান থেকে সিএনজি, রিক্সা বা ইজিবাইকে করে সহজেই চলে যাওয়া যায় ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি দূর্গতে।

Listing Features

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password