ভ্রমণবন্ধু

কালের নীরব সাক্ষী ‘বিবিচিনি শাহী মসজিদ’ - Hosted By

(1 reviews)
6
Add Review Viewed - 395

দেশের অন্যতম ব্যতিক্রমি একটি মসজিদ বরগুনা জেলার ‘বিবিচিনি শাহী মসজিদ’। কালের নীরব সাক্ষী এই এক গম্বুজ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ-এর বয়স প্রায় ৪’শ বছর।

বাংলাদেশের মসজিদগুলোর মধ্যে সচরাচর এতো উঁচুতে বা ঢিবির উপরে কোনো মসজিদ দেখা যায় না। তবে চট্টগ্রামে অবস্থিত ১৬৬৭ সালে নির্মিত আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদটি ভূমি থেকে ৩০ ফুট একটি টিলার উপর অবস্থিত। যদিও এখন সেখানে পাকা সিঁড়ি বানানোর কারণে টিলার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।

এ মসজিদটির বিশেষ বৈশিষ্ট হলো সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৪০ ফুট সুউচ্চ টিলার ওপর এর অবস্থান। এর দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট এবং প্রস্থও ৪০ ফুট। চারপাশের দেয়াল প্রায় ৭ ফুট চওড়া। উত্তর-দক্ষিন ও পূর্ব পাশে তিনটি দরজা খিলানের সাহায্যে নির্মিত। মসজিদের ইটের রং ধুসর বর্ণের। এর গাঁথুনিতে ব্যবহৃত ইটগুলো মোগল আমলের ইটের মাপের সমান। এই ইটের দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১০ ইঞ্চি এবং চওড়া ২ ইঞ্চি। বর্তমান যুগের ইটের চেয়ে এর আকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি ইট ও সুরকি দ্বারা নির্মিত। মসজিদটিতে রয়েছে ৪০ ফুট সুউচ্চ ও সুদৃশ্য একটি মিনার। যা অনেক দূর থেকেই অবলোকন করা যায়। এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের চারপাশে রয়েছে খেজুরসহ ও অন্যান্য অসংখ্য গাছপালা।

বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার উত্তর প্রান্তে এ শাহী মসজিদের অবস্থান। জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বিবিচিনি শাহী মসজিদটি বেতাগীর সীমানায় পড়লেও এটার অতি নিকটতম এলাকা মূলত বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার নেয়ামতি ইউনিয়ন।

এলাকার প্রবীন ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৬৫৯ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহানের আমলে হযরত শাহ নেয়ামত উল্লাহ (র:) (যার নামানুসারে নেয়ামতির নামকরন হয়েছে) সুদূর পারস্য থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে দিল্লীতে আসেন। ওই সময় মোঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র বঙ্গ দেশের সুবেদার শাহ সুজা এই মহান সাধকের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এই আধ্যাত্বিক সাধক কয়েকজন অনুসারিকে সাথে নিয়ে দক্ষিণ বাংলার সাগর উপকূলবর্তী বেতাগী উপজেলার বর্তমান বিবিচিনি গ্রামে এসে আস্তানা গাড়েন। পরবর্তীতে সাধক নেয়ামত শাহ এর আগ্রহে তার অনুসারি শাহ সুজা এই গ্রামেই এক গম্বুজ বিশিষ্ট শাহী মসজিদটি নির্মাণ করেন।

লোকমুখে প্রচলিত আছে এই মসজিদটি তৈরী করেছিল পরীরা। তাই কেউ কেউ এই মসজিদকে পরীর মসজিদ বলেও জানেন। ধারনা করা হয় নেয়ামত শাহের কন্যা চিনিবিবির নামের সাথে মিল রেখে এই মসজিদের নাম করন করা হয় বিবিচিনি শাহী মসজিদ। আর সুফি সাধক নেয়ামত শাহের নাম অনুসারে এলাকার নাম করন করা হয় নেয়ামতি। পরবর্তীতে এই ইউনিয়নও বিবিচিনি নামে পরিচিতি লাভ করে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, শাহ নেয়ামতুল্লাহের দ্বীনি প্রচারে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন বহু হিন্দু ও বৌদ্ধ। স্থানীয় লোকমুখে প্রচলিত ওই সময় বিষখালী নদীর পানি ছিল লবণাক্ত। সুপেয় পানির অভাবে মানুষের কষ্ট দেখে শাহ নেয়ামতুল্লাহ নিজের তসবিহ বিষখালী নদীতে ভিজিয়ে দেন, আর তার অলৌকিকতার গুণের কারণে পনি সুপেয় হয়। আজও পানি একই অবস্থায় রয়েছে। তাছাড়া সে যুগে সুন্দরবন সংলগ্ন এই নদীতে অসংখ্য কুমির ছিল। তার অলৌকিকতার কারণেই বিষখালী নদীতে কুমির আসত না।

মসজিদের পাশে প্রায় ১৫-১৬ হাত লম্বা তিনটি কবর রয়েছে। ধারনা করা হয় বাবা ও ২ মেয়ে এখানেই চির নিদ্রায় শায়িত আছেন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে এই সাধক ইন্তেকাল করেন।

Listing Features

Tags

Items Reviewed - 1

Ali Faisal Dip

Ali Faisal Dip

বাংলাদেশের ইসলামি ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন।

February 16, 2019 7:37 pm

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password