ভ্রমণবন্ধু

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি - Hosted By

(1 reviews)
4
Add Review Viewed - 262

বৃটিশ শাসন নেই, নেই জমিদারের প্রতাপ, শুধু আছে তাদের স্মৃতি বিজড়িত কীর্তি। তেমনই একটি কীর্তি বা স্থাপনা বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। প্রায় দুশ’ বছরের ইতহাস-ঐতিহ্য বুকে লালন করে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এটি।

মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে এ জমিদার বাড়ির অবস্থান। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখলে সে সময়কার মানুষের জীবন-জীবিকা, চাল-চলন, আনন্দ-বিনোদন আর শৌখিনতার পরিচয় পাওয়া যায়।

মানুষের মেধা আর পরিশ্রমকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে উন্নতির শীর্ষে আরোহণ করা যেমন কঠিন নয়, এই জমিদার বাড়ির মানুষগুলোই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কেননা একটি নিবিত্ত পরিবার থেকে এ জমিদার বাড়ির কর্তারা তাদের মেধা মননশীলতা আর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে জমিদারি হাল-হকিকতে নিজেদের নাম লেখাতে পেরেছেন। উন্নতির শীর্ষে নিজেদের অবস্থানকে ধরে রেখেছেন যুগ থেকে যুগান্তরে।

জানা যায়, আঠারো শতকের মধ্যভাগে জমিদার গোবিন্দরাম শাহ বালিয়াটি জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। আর ক্রমান্বয়ে তার উত্তরাধিকারীরা এখানে নির্মাণ করেন আরো বেশ কিছু স্থাপনা। এখানে পূর্ববাড়ি, পশ্চিমবাড়ি, উত্তরবাড়ি, মধ্যবাড়ি এবং গোলাবাড়ি নামে বড় আকারের পাঁচটি ভবন। জমিদারবাড়ির এই বিভিন্ন অংশ বালিয়াটি জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারীরাই তৈরি করেন।

মূল প্রাসাদ কমপ্লেক্সটির একই রকম পাঁচটি অংশ আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। পূর্ব দিকের একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও বাকি চারটি টিকে আছে এখনো। মূল ভবনগুলোর সামনের দেয়ালজুড়ে নানা রকম কারুকাজ আর মূর্তি চোখে পড়ে।

বালিয়াটি জমিদারবাড়ির বিশাল কমপ্লেক্সটি উঁচু দেয়ালে ঘেরা। প্রাচীন আমলের সেই প্রাচীর এখনো টিকে আছে। এ চার দেয়ালের মাঝে এখন রয়েছে চারটি সুদৃশ্য ভবন। আর ভবনগুলোর সামনের প্রাচীর দেয়ালে রয়েছে চারটি প্রবেশ পথ। আর চারটি ভবনের পেছন দিকে আছে আরো চারটি ভবন। চারটি প্রবেশ পথের চূড়ায় রয়েছে পাথরের তৈরি চারটি সিংহমূর্তি। সিংহ দরজা পেরিয়েই দীর্ঘ পুকুর। পুকুরের পানিতে বালিয়াটি প্রাসাদের প্রতিচ্ছবি আজো মন ভরে দেয় সবার।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি মূলত পাঁচটি মহলে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে টিকে আছে প্রায় একই রকম চারটি মহল। আর এ চারটি মহলের মাঝের দু’টি দোতলা আর দু’পাশের দু’টি তিন তলা। প্রায় বিশ একরেরও বেশি জমির উপরে নির্মিত এ জমিদারবাড়িতে রয়েছে ছোট-বড় দুশো’র বেশি কক্ষ। পেছনের দিকে আছে বড় একটি পুকুর। শান বাঁধানো ছয়টি ঘাট আছে এ পুকুরের চারপাশে। পুকুরের চারপাশের সারিবদ্ধ কক্ষগুলো ছিল পরিচারক, প্রহরী ও অন্যান্য কর্মচারীদের থাকার জন্য।

বালিয়াটিতে ১৯২৩ সালের দিকে জমিদার কিশোরী রায় চৌধুরী নিজ ব্যয়ে একটি এলোপ্যাথিক দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। বর্তমানে এটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। বালিয়াটিতে গেলে হাসপাতালটি দেখা যাবে।

জমিদার হীরালাল রায় চৌধুরী সাটুরিয়া থেকে বালিয়াটির প্রবেশ পথের পাশে কাউন্নারা গ্রামে একটি বাগানবাড়ী নির্মাণ করেন। এবং সেখানে দিঘির মাঝখানে একটি প্রমোদ ভবন গড়ে তোলেন, যেখানে সুন্দরী নর্তকী বা প্রমোদ বালাদের নাচগান ও পান চলতো।

বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদটি রক্ষনাবেক্ষণ করছে। প্রতিদিন শত শত দর্শনাথী দেখতে আসে নয়নাভিরাম এই প্রাসাদটি। প্রাসাদটির মধ্যে রয়েছে জমিদারদের হাম্মাম খানা, হেরেম খানা, জমিদারদের ব্যবহৃত বিভিন্ন দর্শনীয় বস্তু। জমিদারদের তলোয়ার, তাদের খাট, পালঙ্ক, আসবাবপত্র ও নানান ধরনের জমিদারি বিষয়াদি। যে সব দেখলে দর্শকদের মন আনন্দে উদ্বেল হয়ে যায়।

Listing Features

Tags

Items Reviewed - 1

Ali Faisal Dip

Ali Faisal Dip

প্রত্নতত্ত্ব আর ইতিহাস পছন্দ যাদের তাদের ভালো লাগবে

February 16, 2019 5:16 pm

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password