ভ্রমণবন্ধু

রহস্য আর রোমাঞ্চে ভরা সুন্দরবন - Hosted By

(1 reviews)
4
Add Review Viewed - 350

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের খুলনা ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, সাপ, নানা রকমের পাখি আর সুন্দরী গাছদের রাজ্য সুন্দরবনে যাওয়া। সুন্দরবন বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি; যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম। পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকার বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত এই অপরূপ বনভূমি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলা এবং ভারতের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত। সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি।

১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে। সুন্দরবন ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এর বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশ বস্তুত একই নিরবচ্ছিন্ন ভূমিখণ্ডের সন্নিহিত অংশ হলেও ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে সূচিবদ্ধ হয়েছে; যথাক্রমে ‘সুন্দরবন’ ও ‘সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান’ নামে।

সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ক্ষুদ্রায়তন দ্বীপমালা। মোট বনভূমির ৩১.১ শতাংশ, অর্থাৎ ১ হাজার ৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা, খাঁড়ি, বিল মিলিয়ে জলাকীর্ণ অঞ্চল। বনভূমিটি, স্বনামে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। জরিপ মোতাবেক ৫০০ বাঘ ও ৩০ হাজার চিত্রা হরিণ রয়েছে এখন সুন্দরবন এলাকায়। ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

সুন্দরবনের পুরোটাই যেন অজানা রূপ, রহস্য আর রোমাঞ্চে ভরা। বাংলায় সুন্দরবন, এর আক্ষরিক অর্থ সুন্দর জঙ্গল বা সুন্দর বনভূমি। সুন্দরী গাছ থেকে সুন্দরবনের নামকরণ হয়ে থাকতে পারে, যা সেখানে প্রচুর জন্মায়। অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যাখ্যা এরকম হতে পারে যে, এর নামকরণ হয়তো হয়েছে ‘সমুদ্র বন’ বা ‘চন্দ্র-বান্ধে (বাঁধে)’ বা প্রাচীন আদিবাসী একটি শব্দ থেকে। তবে সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় যে সুন্দরী গাছ থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে।

পুরো পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ ৩টি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের একটি হিসেবে গঙ্গা অববাহিকায় অবস্থিত সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান যথেষ্ট জটিল। বন বিভাগের সর্বশেষ জরিপে বলা হয়েছে সুন্দরবনে ৩১৫ প্রজাতির পাখির বাস; এর মধ্যে ৮০ প্রজাতি অতিথি পাখি। রয়েছে ৪০০ প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী। আছে ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতি শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড। এখানে সুন্দরী, কেওড়া, গরান, গোলপাতা, পশুর, কাকড়া, হেতাল, বলা, শিঙরা ও খলশী গাছ বেশি জন্মে।

রয়েল বেঙ্গলের জন্য বিখ্যাত হলেও এই বনে ৩৭৫ প্রজাতির বেশি বন্য প্রণী রয়েছে। ৩৫ প্রজাতির সরিশ্রিপ, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৯১ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাকড়া ও ৪৩ প্রজাতির মলাস্কা; লোনা পানির কুমিড়, বন্য শুকর, বানর, ডলফিন, মেছো ও বন বিড়াল এবং বিখ্যাত চিত্রল হরিণ হরহামেশায় দেখা যায় সুন্দরববনে।

২০০৪ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী বা ইউএনডিপি জরিপ অনুযায়ী রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। জলে আর জঙ্গলে এই সুন্দরবনের ভূবন। অসংখ্য খাল জালের মতো বেষ্টন করে রেখেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যকে। প্রাকৃতিক সপ্তআচার্য্য নির্বাচনের জন্য সুন্দরবনকে নিশ্চয় ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ঘরে বসে ভোট দেয়া, আর নিজে গিয়ে বেড়িয়ে সুন্দরবনের সৌন্দর্য্য উপভোগ করে সেই উপলব্ধি থেকে ভোট দেয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

Listing Features

Tags

Items Reviewed - 1

Ali Faisal Dip

Ali Faisal Dip

সত্যি, সুন্দরবন বাঙলাদেশের একটি সিগনেচার ট্যুরিস্ট স্পট।

February 9, 2019 11:43 pm

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password