ভ্রমণবন্ধু

চাঁদপুরের রহস্যময় লোহাগড় মঠ - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 253

Promo Video

আজ থেকে কয়েক’শ বছর আগে জমিদাররা আমাদের দেশ থেকে তাদের রাজত্ব গুটিয়ে নিয়েছে। তবে কালের সাক্ষী হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে তাদের রেখে যাওয়া স্থাপত্য। তাদের গড়া স্থাপত্যশৈলী আজও যে কারো মন কেড়ে নেয়। তেমনই একটি স্থাপত্য চাঁদপুরের ‘লোহাগড় মঠ’।

প্রায় চার থেকে সাতশ’ বছরের পুরাতন প্রাচীন এই মঠ চাঁদপুর জেলা ফরিদগঞ্জ উপজেলার লোহাগড় গ্রামে ডাকাতিয়া নদীর পাশে অবস্থিত। লৌহ এবং গহড় নামে দু’জন জমিদারের নামানুসারে এলাকাটির নাম রাখা হয় লোহাগড়। জমিদারদের নামানুসারে গ্রামের সাথে মিল রেখেই তাদের স্থাপত্যশৈলীর নাম রাখা হয় লোহাগড় মঠ।

লোক মুখে শোনা যায়, লৌহ এবং গহড় ছিলেন অত্যাচারী জমিদার। তাদের ভয়ে মঠ সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কেউ কোনো শব্দ করতো না। তবে জনৈক এক বৃটিশ কর্তাব্যক্তি ঘোড়া নিয়ে প্রাসাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন, “কেমন রাজা রে এরা বাবু রাস্তাগুলো ঠিক নেই!”। পরবর্তীতে একথা জমিদারের গোলামরা শুনে লৌহ ও গহড়কে অবহিত করে। কথিত আছে, ওই কর্তাব্যক্তির জন্য নদীর তীর হতে জমিদার বাড়ি পর্যন্ত সিকি ও আধুলি মুদ্রা দিয়ে রাস্তা তৈরী করা হয়। যার প্রস্থ ছিল ২ হাত, উচ্চতা ১ হাত ও দৈর্ঘ্য ২০০ হাত। পরবর্তীতে ওই রাস্তাটিতে স্বর্ণ-মুদ্রা দ্বারা ভরিয়ে দেয়া হয় এবং যখন ওই ব্যক্তি রাস্তাটি ধরে আসছিলো তখন এ দৃশ্য দেখে চমকে উঠেন। ওইসময় রাজার শীর্ষরা তার প্রতি অত্যাচার করেন।

জমিদারী আমলে সাধারণ মানুষ এদের বাড়ির সামনে দিয়ে চলাফেরা করতে পারতো না। বাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতে নৌকা চলাচল করতো নিঃশব্দে। ডাকাতিয়া নদীর কূলে তাদের বাড়ির অবস্থানের নির্দেশিকাস্বরূপ সুউচ্চ মঠটি নির্মাণ করেন। তাদের আর্থিক প্রতিপত্তির নিদর্শনস্বরূপ তারা মঠের শিখরে একটি স্বর্ণদণ্ড স্থাপন করেন। জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর ওই স্বর্ণের লোভে মঠের শিখরে উঠতে গিয়ে অনেকে গুরুতর আহত হয়। শুধু তা-ই নয়, কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে বলেও শোনা যায়।

মঠটি কবে এবং কে নির্মাণ করেছিলেন এ ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। তবে কিছুসূত্র থেকে জানা যায়, ওই দুই ভাই (লৌহ এবং গহড়) এই মঠটি নির্মাণ করেছিলেন। শুরুতে এখানে পাশাপাশি পাঁচটি মঠ ছিল। তবে বর্তমানে এখানে মাত্র তিনটি মঠ অবশিষ্ট রয়েছে। বর্তমানে টিকে থাকা তিনটি মঠ ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতার। সবচেয়ে লম্বা মঠটি বেশি সুন্দর; যেটির উপরিভাগে নিম্নভাগের চেয়ে অনেক বেশি নকশার কাজ রয়েছে। এই মঠটির উপরিভাগ দেখতে অনেকটা প্যাগোডার উপরিভাগের মত। মঠটির উপরে কয়েকটি গর্ত রয়েছে, যেখানে টিয়াপাখি বাস করে।

বহু বছর মঠগুলো জঙ্গলে ঢেকে ছিল। কারণ মানুষজন ওইদিকে তেমন-একটা যাতায়াত করতো না। মানুষের ধারণা ছিলো, মঠগুলোতে খারাপ আত্মার আনাগোনা রয়েছে এবং এসব খারাপ আত্মা মানুষকে নিয়ে যায় অথবা হত্যা করে ফেলে। আর এ কারণেই অনেক বছর মানুষজন একা এই মঠের কাছে যাওয়ার সাহস করেনি। তবে এটি এখন দর্শনীয় স্থান হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এই মঠটি দেখার জন্য এখানে প্রতিদিনিই দূরদূরান্তর থেকে অনেক ভ্রমণপ্রিয় মানুষ ছুটে আসে।

যেভাবে যাবেন:

চাঁদপুর থেকে সোজা চাঁন্দ্রা বাজার। এরপর চান্দ্রা বাজার থেকে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করলেই লোহাগড় গ্রাম। সেখান থেকে রিক্সায় কিংবা হেঁটেও পৌঁছানো যাবে লোহাগড় মঠে।

Listing Features

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password