ভ্রমণবন্ধু

রূপসা জমিদার বাড়ি - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 210

বাংলাদেশে অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে জমিদারি প্রথা। কিন্তু রয়ে গেছে তাদের স্থাপনা। সেইসব জমিদার বাড়িতে এখনো মিশে আছে জমিদারি। বাড়ির আঙিনায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অতীতের গল্পকথা। তেমনই এক জমিদার বাড়ি চাঁদপুর জেলার ‘রূপসা জমিদার বাড়ি’। এটি জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।

বাংলাদেশে অবস্থিত বেশিরভাগ জমিদার বাড়িই অযত্ন এবং অবহেলার কারণে প্রায় ধ্বংসের মুখে। কিন্তু রূপসা জমিদার বাড়ি এখনো প্রায় আগের মতই আছে। এই জমিদার বাড়িটিতে প্রবেশ পথে একটি গেইট রয়েছে, ভিতরে একটি মসজিদ, জমিদার পরিবারবর্গের একটি কবরস্থান এবং একটি কাছারি ঘর রয়েছে।

জমিদার বাড়ির সামনে আছে বিশাল মাঠ। জমিদার বাড়িতে ইট দিয়ে তৈরি করা মোট তিনটি ভবন আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মূল ভবন, আর একটি আছে মূল ভবনের বাম পাশে এবং আরেকটি আছে মূল ভবনের পিছনে। এছাড়াও আছে ঢেউটিন দিয়ে তৈরি করা তিনটি ঘর। জমিদার বাড়িতে ঢুকার পথে ডানপাশে আছে জমিদার বাড়ির মসজিদ এবং জমিদার বাড়ির কবরস্থান। আর ঘাটবাঁধানো একটি বিশাল পুকুর ও জমিদার বাড়ির প্রবেশদ্বার।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ২৫০ বছর আগে বংশাল গ্রামের বর্তমান খাজুরিয়া গ্রামের হিন্দু জমিদারদের জমিদারির পতন হলে ব্রিটিশদের কাছ থেকে এই জমিদারি কিনে নেন রূপসা জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি রূপসা জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে কিছু মতামত রয়েছে। একটি মতে, এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আহম্মদ রাজা নামের একজন। আরেকটি মতে, এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মোহাম্মদ গাজী নামের একজন।

তবে বেশি প্রসিদ্ধ মতটি হচ্ছে, আহম্মদ রাজা নামের একজনই এই রূপসা জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। আর ওনার সন্তান ছিলেন মোহাম্মদ গাজী। আহম্মেদ রাজার মৃত্যুর পর এই জমিদার বাড়ির জমিদারিত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ গাজী। তারপর মোহাম্মদ গাজীর মৃত্যুর পর এই জমিদার বাড়ির জমিদারিত্ব পান তার সন্তান আহমেদ গাজী। এই জমিদাররা খাজনার জন্য প্রজাদের উপর কখনো অত্যাচার জুলুম করতেন না। উল্টো প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশার সময় তাদেরকে সাহায্য করতেন। তাই তাদেরকে প্রজারা অনেক শ্রদ্ধা করত, যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে।

এই রূপসা জমিদার পরিবারের একজন হলেন খান বাহাদুর আবিদুর রেজা চৌধুরী। তিনি ব্রিটিশ শাসনামলে নামকরা রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী ছিলেন। এই জমিদার বাড়ির বংশধররা এখনো এই বাড়িটিতে বসবাস করতেছেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব বাংলার বেশিরভাগ জমিদাররাই পাকিস্তান মেলেটারি বাহিনীকে অর্থ এবং বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে। কিন্তু এই রূপসা জমিদাররা পাকিস্তানি মেলোটারিকে সাহায্য করেননি। তারা মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছেন।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে নিয়মিত বিরতিতে দিনব্যাপী চাঁদপুরের বাস ছেড়ে যায়। এছাড়া ট্রেনেও যাওয়া যায়। ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চের মধ্যে এমভি সোনারতরী, এমভি তাকওয়া, এমভি বোগদাদীয়া, এমভি মেঘনা রাণী, এমভি আল বোরাক, এমভি ঈগল, এমভি রফরফ, এমভি তুতুল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। যানজট এড়াতে চাইলে লঞ্চে যাওয়ায় ভালো। লঞ্চে ঢাকা থেকে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা।

চাঁদপুর সদর থেকে রূপসা জমিদার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার। চাঁদপুর জেলা সদর থেকে সিএনজি/ইজিবাইকে চড়ে সহজেই রূপসা জমিদার বাড়ি যেতে পারবেন।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password