ভ্রমণবন্ধু

রহনপুর অষ্টভুজী সমাধিসৌধ - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 103

গৌড়িয় আমলের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন ‘রহনপুর অষ্টভুজী সমাধিসৌধ’। এটি বাংলার মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে সর্বপ্রথম অষ্টভূজি ভবনের নিদর্শন। চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার সদর দপ্তর রহনপুরের উত্তর প্রান্তের নওদা বুরুজের ঠিক দক্ষিণ পাশের ১ কিলোমিটার দূরে অপেক্ষাকৃত উঁচু ভূমির উপর এ অষ্টভূজ সমাধিসৌধটি অবস্থিত।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাচীন এ সমাধিসৌধটি সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে মুঘল রীতিতে নির্মিত। তবে কি উদ্দেশ্যে ভবনটি নির্মিত হয়েছিলো তা পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি। ধারণা করা হয়, এটি কোনো সমাধি সৌধ ছিলো। অবশ্য বর্তমানে শবাধারের কোনো আলামত বা চিহ্ন নাই। কিন্তু চারপাশের দরজা দেখে এটা কোনো ওলির মাজার বলে মনে হয়। কারণ প্রাচীন ইমারতগুলির মধ্যে অধিকাংশ বিলুপ্তি ঘটেছে। শুধু পবিত্র স্থাপনাগুলো আজও টিকে আছে।

ঐতিহাসিক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া ইমারতটিকে একটি মাজার বলে উল্লেখ করেন। এটি সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দীর পরে নির্মিত হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। ড: আহমদ হাসান দানীও একই মত পোষন করেন। খুব সম্ভবত সবাধারটি ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং এর মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

সময়ের বিচারে এটি বাংলার মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে সর্বপ্রথম অষ্টভূজি ভবনের নিদর্শন। পরবর্তিকালে এ বৈশিষ্টের পুনরাবৃত্তি দেখা যায় রাজমহলের বেগমপুরের অষ্টভূজি সমাধী সৌধে, যা এখনো পর্যন্ত বাংলায় এ জাতীয় ভবনের সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে গণ্য। মিহরাবের উপস্থিতি ভবনটিকে সমাধী সৌধ হিসেবেই বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়। সুতরাং এটি যে একটি প্রাচীন মাজার বা সমাধীসৌধ তা নির্দিধায় বলা যায়।

সমাধিসৌধের বাইরের দিকের পরিমাপ ২৬.৫২ মিটার। ভবনটির প্রত্যেকটি বাহু ১.৩৭ মিটার পুরু এবং ৪.৩৪ মিটার দীর্ঘ। প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তর সংরক্ষণ ও সংস্কারের আগে গৌড়িয়া ইট দ্বারা নির্মিত এ ভবনটি বেশ জীর্ণ অবস্থায় ছিলো। অষ্টকোণাকারে নির্মিত এ ক্ষুদ্র সমাধিসৌধের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে রয়েছে ৪টি খিলানযুক্ত প্রবেশ পথ। সমাধিসৌধের একটি মাত্র গম্বুজ, যা অষ্টদেয়াল পিপা আকৃতির হয়ে উর্ধ্বে উঠে গম্বুজের ভার বহন করছে।

দরজার উভয় পাশের দেয়ালে সুন্দর প্যানেলিংয়ের কারুকাজ রয়েছে। প্রত্যেক দরজার দু’পাশে শোভাবর্ধক সরু মিনার স্থাপিত। প্রতি দরজার উপরে ৯টি করে খিলান রয়েছে। দরজার নকশার মধ্যবর্তিটিতে শাপলা ফুল অঙ্কিত রয়েছে। এর অনুভুমিক প্যারাপেট বদ্ধ মেরলনের সারি দ্বারা অলংকৃত। সমাধিসৌধের অভ্যন্তরে গম্বুজ ও নিম্নদেশে বিচিত্র নকশা ও ছোট ছোট কুলুংগি রয়েছে। ক্ষুদ্রাকৃতির কুলুংগিগুলো সম্ভবত বাতি রাখার জন্য ব্যবহৃত হত। গম্বুজের পার্শ্বদেশে পদ্মফুল এবং কেন্দ্র বিন্দুতে কলসচুড়া শোভিত রয়েছে।

১৯৭৮ সালে প্রত্নতত্ব বিভাগ সম্ভবত এ অষ্টভুজি ইমারেতের আঙ্গিনায় সুরকী ঢালাই করে। এ ভবনের চারপাশে প্রায় ২ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অজস্র মৃৎপাত্র, প্রাচীন ইট ও পাথরের ভগ্নাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান আবাদী জমির প্রয়োজনের তাগিদেই এ স্থানটি হয়ে গেছে ফসলী জমি। এখনো জমি খনন করতে গেলে প্রাচীন ইট-পাথরের ভাঙা অংশ পাওয়া যায়। এ থেকে বোঝা যায় এখানে দূর অতীতে সারিবদ্ধ সুসজ্জিত প্রচুর ইমারতের অস্তিত্ব ছিলো।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password