ভ্রমণবন্ধু

রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 194

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, নওগাঁর পতিসর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত স্থান। শাহজাদপুর উপজেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈত্রিক জমিদার বাড়ি রয়েছে। ১৮৪২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ইংরেজদের কাছ থেকে প্রথম বাড়িটি কিনেছিলেন। এটি একটি দোতলা ভবন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯০ সালের দিকে প্রথম শাহজাদপুর এই কুঠিবাড়িতে আসেন এবং এখানেই রচনা করেছেন তার অনেক বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার এই কাছারি বাড়িটির গুরুত্ব অনুধাবন করে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন শিল্পকর্ম সংগ্রহপূর্বক একে একটি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর আগে রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এ অঞ্চলের জমিদারি পান। তিনি নিজে এখানে জমিদারি করতেন কিন্তু পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালের দিকে কবি এখানে জমিদার হয়ে আসেন। এবং এখানে তিনি ১৯০১ সাল পর্যন্ত জমিদারী পরিচালনা করেছেন।

১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারি নিলামে উঠলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৩ টাকা ১০ আনায় এই জমিদারি কিনে নিয়েছিলেন। এর আগে কাছারি বাড়ির মালিক ছিল নীলকররা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে বসেই রচনা করেন তার বিখ্যাত গ্রন্থ সোনার তরী, বৈষ্ণব কবিতা, দুইপাখি, আকাশের চাঁদ, পুরস্কার, হৃদয়, যমুনা, চিত্রা, চৈতালী, ইত্যাদি, গীতাঞ্জলী কাব্যের কাজও শুরু করেন। যাতে পরবর্তীতে তিনি নোবেল পুরস্কার পান। পোস্ট মাস্টার গল্পের ‘রতন’ চরিত্রও শাহজাদপুরে বসেই লেখা। চিত্রা, শীতে ও বসন্তে, নগর সঙ্গীতে এবং চৈত্রালীর ২৮টি কবিতা, ছিন্ন পত্রাবলীর ৩৮টি, পঞ্চভূতের অংশবিশেষ এবং বিসর্জনের নাটক তিনি শাহজাদপুরে বসেই রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ১৮৯০ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত মোট ৭ বছর জমিদারির কাজে শাহজাদপুরের কাছারি বাড়িতে অবস্থান করেছেন।

বর্তমানে পুরো ভবনটি জাদুঘর হিসেবে সকল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। জাদুঘরের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ১৬টি কক্ষ রয়েছে। এই ১৬টি কক্ষেই রয়েছে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শিল্পী রবীন্দ্রনাথ, জমিদার রবীন্দ্রনাথ, কৃষক বন্ধু রবীন্দ্রনাথ অর্থাৎ নানা বয়সের এবং নানা সময়ের বিচিত্র ভঙ্গির সব ছবি। তার একদম ছোটবেলা থেকে মৃত্যুশয্যায় ছবি পর্যন্ত এখানে সংরক্ষিত আছে।

তাছাড়াও এখানে কবির নানান রয়েছে সকল শিল্পকর্ম এবং তার ব্যবহার্য আসবাবপত্র। যা দিয়ে পরিপাটি করে সাজানো এটি। কবির ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলোর মধ্যে আরো আছে চঞ্চলা ও চপলা নামের তার ব্যবহার করা দুটো স্পিডবোট, পল্টন, ৮ জন বেহারার পালকি, কিছু কাঠের চেয়ার, টি টেবিল, সোফাসেট, আরাম চেয়ার, পালংক ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস।

সময়সূচি:

জাদুঘর পরিদর্শনের সময়সূচি মঙ্গলবার থেকে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত। মাঝে দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি। শুক্রবার ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি। সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে। সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘর বন্ধ থাকে। টিকিট দেশি পর্যটকের জন্য ১০ টাকা আর বিদেশি পর্যটকের জন্য ১০০ টাকা।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে শাহজাদপুরের দূরত্ব প্রায় ১৩২ কিলোমিটার। ঢাকার কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে রয়েছে পাবনা যাওয়ার বাস। পাবনার বাসে গেলে আপনি শাহজাদপুর যেতে পারবেন। কারণ এটি ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক দিয়ে শাহজাদপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে বাম দিকে গেলেই বাজার। সেখান থেকে আপনি সিএনজি চালিত অটোরিক্সাতে বা রিক্সাতে যেতে পারেন রবীন্দ্রনাথের কাছারি বাড়ি।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password