ভ্রমণবন্ধু

মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স - Hosted By

Not review yet
3
Add Review Viewed - 217

আমবাগান বা বৈদ্যনাথতলাতে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা, পাঠ করা হয় বাংলাদেশ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। শপথ গ্রহণ এবং ঘোষণাপত্র পাঠের পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ একটি বিবৃতি পাঠ করেন এবং বৈদ্যনাথ তলার নাম রাখেন মুজিবনগর। সেই থেকে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলার নাম হয় মুজিবনগর।

সেদিন মুজিবনগরকে অস্থায়ীভাবে বাংলাদেশের রাজধানী ঘোষণা করা হয়। দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু জায়গাটি সঠিকভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার পর মুজিবনগর সরকারকে স্মরনীয় করে রাখার জন্য ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসের দিন মুজিবনগর স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

মূলত; মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ নির্মাণের মূল কাজ শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ মুজিবনগরকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতার স্মৃতি ধরে রাখতে ২৩ স্তরের স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলেন। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন হয় তারই হাতে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজে হাত দেন।

মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স:

প্রায় ৮০ একর জায়গার উপর দাঁড়িয়ে আছে মুজিবনগর কমপ্লেক্স। আম্রকাননের জায়গার পরিমাণ প্রায় ৪০ একরের মতো। এখানে আমগাছ রয়েছে ১৩শ’টি। তিনটি ধাপে ছয় স্তর বিশিষ্ট দুইটি গোলাপ বাগান। যা ৬ দফা আন্দোলনের রূপক। বাগান দুটিতে গোলাপগাছ আছে ২২শ’।

এখানে আছে বঙ্গবন্ধু তোরণ, অডিটোরিয়াম, শেখ হাসিনা মঞ্চ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কেন্দ্র, মসজিদ, হেলিপ্যাড, ২৩টি কংক্রিটের ত্রিকোণ দেয়ালের সঙ্গে উদিয়মান সুর্যের প্রতিকৃতিকে প্রতীক করে মুজিব নগর স্মৃতিসৌধ, প্রশাসনিক ভবন, টেনিস মাঠ, পর্যটন মোটেল, স্বাধীনতা মাঠ, স্বাধীনতা পাঠাগার, বিশ্রামাগার, পোষ্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, শিশুপল্লী, ডরমেটরি ও মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ভিত্তিক বাংলাদেশের মানচিত্র।

বাংলাদেশের মানচিত্র:

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের পর এখানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হল বাংলাদেশের মানচিত্র।যা আসলে মুক্তিযুদ্ধকালিন অবস্থার রূপক, কোথায়, কোন এলাকায় যুদ্ধ হয়েছে, শরণার্থীরা কীভাবে সে সময় ভারত গিয়েছিলেন সেসবের প্রতিকী বর্ননা। বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে ভাগ করে দেখানো হয়েছে মানচিত্রে। মানচিত্রের উত্তর দিকটা উচু থেকে ক্রমান্বয়ে দক্ষিণ দিকটা ঢালু করা হয়েছে। এবং সমুদ্র তীরবর্তি অঞ্চলগুলোকে দেখানো হয়েছে পানির ওপর ভাসমান।

মুজিবনগর কমপ্লেক্সের মাস্টার প্ল্যান করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। মানচিত্রের নকশা বুয়েট স্থপতীদের সংগঠন বিআরটিসি’র করা। কমপ্লেক্সের আরেক উল্লেখ যোগ্য বিষয় কিছু ভাস্কর্য। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, ঐতিহাসক তেলিয়াপাড়া সম্মেলন, মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠান, পাকবাহিনির আত্মসর্ম্পন, রাজাকার আল বদর, আল সামস’য়ের সহযোগিতায় বাঙালি নারী পুরুষের উপর পাক হানাদার বাহিনির নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনা প্রায় ৪শ’ বিভিন্ন ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

মুজিব নগর স্মৃতিসৌধ:

স্মৃতিসৌধের মূল নকশা স্থপতি তানভীর করিম। স্মৃতিসৌধটি বাংলাদেশের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। স্থাপনার মূল বৈশিষ্ট ১৬০ ফুট ব্যসের গোলাকার স্তম্ভের উপর মূল বেদীকে কেন্দ্র করে ২০ ইঞ্চির ২৩টি দেয়াল। দেয়ালগুলো উদিয়মান সূর্যের প্রতীক। ৩০ লক্ষ শহীদকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য স্মৃতিসৌধের মেঝেতে ৩০ লক্ষ্ পাথর বসানো হয়েছে। সৌধের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে লাল মঞ্চ, ২৩টি স্তম্ভ, ১ লক্ষ বুদ্ধিজীবির খুলি, ৩০ লক্ষ শহীদ, ১১টি সিঁড়ি, বঙ্গোপসাগর, ২১শে ফেব্রুয়ারি, রক্তের সাগর এবং ঐক্যবদ্ধ সাড়ে সাত কোটি জনতা।

স্বাধীনতার রক্তাত সূর্যের মাধ্যমে লালমঞ্চকে তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়েই অধ্যাপক ইউসুপ আলী স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেছিলেন। ৩টি স্তম্ভ হল ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের শাষণ নিপিড়নসহ বাঙালির আন্দোলন ও স্বাধীনতার প্রতীক।

স্মৃতিসৌধের মূল বেদীতে গোলাকার বৃত্তের মাধ্যমে শহীদ বুদ্ধিজীবির খুলি বোঝানো হয়েছে। বেদী তৈরিতে ব্যবহৃত পাথর দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদ মা-বোনকে সম্মান জানানো হয়েছে। স্মৃতিসৌধের মূল বেদীতে ওঠার জন্য মোট ১১টি সিঁড়ি ব্যবহার করতে হয়। মুক্তিযুদ্ধকালিন সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা যে ১১টি সেক্টরে ভাগ হয়ে যুদ্ধ করেছেন ১১টি সিঁড়ি সেই ১১টি সেক্টরের প্রতীক।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি মুজিবনগর যাওয়া যায়। এছাড়া বাসে মেহেরপুর জেলা সদর, সেখান থেকে সহজেই যাওয়া যায় মুজিবনগর। মেহেরপুর সদর থেকে মুজিবনগরের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। ঢাকার কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে জে আর পরিবহন, মেহেরপুর ডিলাক্স, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স এবং শ্যামলী পরিবহনের বাস সরাসরি যায় মেহেরপুর ও মুজিবনগর।

নিজস্ব বাহন নিয়ে গেলে পাটুরিয়ার ফেরি পারাপারের ঝামেলা এড়িয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা অতিক্রম করে লালনশাহ সেতু (পাকশী সেতু) পেরিয়ে মেহেরপুর যাওয়া যায়।

Listing Features

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password