ভ্রমণবন্ধু

মালনীছড়া চা বাগান - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 202

বাংলাদেশের সিলেট জেলার একটি চা বাগান ‘মালনীছড়া’। এটি উপমহাদেশের বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত চা বাগান। ১৮৫৪ সালে লর্ড হার্ডসন ১৫০০ একর জায়গার উপর এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

সিলেট শহরের খুব কাছেই এই চা বাগানটি সবুজে ঘেরা। প্রায় আড়াই হাজার একর ভূমিস্বত্ত্ব সীমানায় উঁচু-নিচু টিলায় ভরা চা বাগানটি। এক হাজার দুইশ’ একর জমির মধ্যে রাবার আবাদের জন্য রয়েছে সাতশ’ একর জমি এবং বাকি জমিটুকু জুড়ে রয়েছে কারখানা, আবাসন, বৃক্ষ, বনজঙ্গল। দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশে এসে যারা খুব অল্প সময়ে খুব সুন্দর কোনো সবুজের গালিচায় হারিয়ে যেতে চান তাদের জন্য মালনীছড়া চা বাগান অন্যতম।

১৫০০ একর জায়গার ওপর অবস্থিত উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান মালনীছড়ায় পর্যটকদের কাছে আরেক বিস্ময়। সিলেটের চায়ের রঙ, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। বর্তমানে বেসরকারি তত্ত্বাবধানে চা বাগান পরিচালিত হয়ে আসছে। চা বাগানের পাশাপাশি বর্তমানে এখানে কমলা ও রাবারের চাষ করা হয়। এই বাগানের পাশেই বিশ্বের অন্যতম সুন্দর স্টেডিয়াম। যেখানে ২০১৪ সালের বিশ্ব টি-২০ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। মালনীছড়া চা বাগান ছাড়াও সিলেটে লাক্কাতুরা চা বাগান, আলী বাহার চা বাগান, খাদিম আহমদ টি স্টেট, লালাখান টি স্টেট, বরজান টি স্টেট উল্লেখযোগ্য।

চা বাগানের বুক ভেদ করে চলে গেছে দৃষ্টিনন্দন সড়ক। আকাশপথে যারা সিলেটে আসেন তাদের প্রথমেই স্বাগত জানায় এই চা-বাগান। বাগানটির অদ্ভুত সুন্দরের মায়ায় পড়েছিলেন অনেক বিদেশি। গাড়ি থামিয়ে তারা দাঁড়িয়েছেন বাগানের পাশে। বাগানে হাঁটলেই চোখে পড়ছে কমলা, কাঁঠাল ও সুপারি বাগান। এছাড়া ট্যাং ফল, আগর, রাবার চন্দনসহ অনেক ওষুধি-শোভাবর্ধক বৃক্ষ রয়েছে বাগানটিতে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৬৫০ সালে চীনে প্রথম চা উৎপাদন শুরু হয়। দেশটির বুদ্ধিজীবীদের প্রতিদিনকার জীবনের ৭টি কাজের একটি ছিল চা পান। তার প্রায় ২০০ বছর পরে ১৮৫৪ সালে পাক-ভারতীয় উপমহাদেশের সিলেটেই প্রথম চা উৎপাদন শুরু হয়। চায়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে ব্রিটিশ আর বাংলাদেশিরা। সিলেটের মালনীছড়া চা বাগান থেকেই উপমহাদেশে চা চাষের গোড়াপত্তন।

এরপর দেড় শতাব্দীর মালনীছড়া বহু ইংরেজ, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি ব্যবস্থাপকের হাত ঘুরে ১৯৮৮ সাল থেকে এখনও ব্যক্তিগত মালিকানায় রয়েছে। শ্রীমঙ্গলকে চায়ের দেশ বলা হলেও সিলেটের এই চা বাগান থেকেই চা চাষের গোড়াপত্তন। যা এখন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত কে টমাস প্লেন থেকে নেমে বাগানের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে বলেছিলেন, পৃথিবী এতো সুন্দর যে মালনীছড়া বাগান না দেখলে তা বোঝা যাবে না। শুধু হ্যারি কে টমাস নয়, সিলেটের চা বাগানের সবুজ মায়ায় প্রতিদিন জড়ো হন হাজার হাজার দেশি বিদেশি পর্যটক।

মালনীছাড়া ছাড়াও এখানে রয়েছে লাক্কাতুরা চা বাগান, আলী বাহার টি এস্টেট এবং পশ্চিম দিকে ভেতরে তারাপুর চা বাগান। পূর্বদিকে কালাগুল চা বাগান আরো পূর্বে চিকনাগুল চা বাগান। এছাড়া মালনীছড়া প্রধান বাংলোর পাশের রাস্তা দিয়ে অন্তত তিন কিলোমিটার পূর্বদিকে গেলেই দেখা মিলবে হারুং হুড়ুং গুহার।

Listing Features

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password