ভ্রমণবন্ধু

ভর্তের দেউল ঢিবি - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 112

ভরত ভায়না বা ভর্তের দেউল ঢিবি, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভরতভায়না গ্রামে অবস্থিত একটি প্রত্নক্ষেত্র। ধারণা করা হয় এটি খ্রিস্টীয় ৭-৮ শতকের একটি নিদর্শন।

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৫ সালে সর্বপ্রথম এই ঢিবি উৎখনন করে। এরপর ১৯৯৫-৯৬ সালে পুণরায় উৎখনন চালানো হয়। ১৯৯৬-৯৭ সাল বাদে, ২০০০-০১ পর্যন্ত প্রতি মৌসুমে এখানে খননকার্য অব্যাহত থাকে।

দৌলতপুর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার দক্ষিণে, বুড়িভদ্র নদীর ডানতীরে প্রায় ৪০০ মিটার পশ্চিমে ভরতভায়না গ্রামে একটি ঢিবি রয়েছে। এ সম্পর্কে যশোহর-খুলনার ইতিহাস গ্রন্থে বাবু সতীশ চন্দ্র মিত্র ১৯১৪ সালে লিখেছেন-

“ইহা এখনো ৫০ ফুট উচ্চ আছে। লোকে বলে উহা পুর্বে আরো উচ্চ ছিল, কিন্তু একবার ভূমিকম্পে অনেকটা বসিয়া গিয়াছে। স্তুপটি গোলাকার, উহার পরিধি পাদদেশে ৯০০ ফুটের অধিক হইবে। ইহার দক্ষিণ-পূর্ব্ব দিক দিয়া নদী প্রবাহিত, অন্য তিন দিকে গড়খাই ছিল, তাহার চিহ্ন আছে। দক্ষিণ দিকে নদীর নিকটে একটি পুকুরের খাত দেখিতে পাওয়া যায়। স্তুপটি সম্পূর্ণ ইষ্টকরাশিতে পরিপূর্ণ। পাদদেশে খনন করিয়া প্রাচীরের চিহ্ন পাওয়া গিয়াছিল।”

বাংলার তৎকালীন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক কে. এন. দীক্ষিত এই স্থান পরিদর্শন করে যে বর্ণনা দেন তা থেকে জানা যায়, স্তুপটি প্রায় ২৫০/২৭৫ মিটার বেড় ও ১০/১২ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট ছিল। তিনি সেখানে ১৬ ইঞ্চি × ১৩ ইঞ্চি × ৩ ইঞ্চি মাপের কিছু ইট দেখে অনুমান করেন যে, এখানকার ইমারতটি গুপ্ত যুগের ছিল এবং এটি ছিল একটি বৌদ্ধ সংঘারাম।

সৌখিন প্রত্নতাত্ত্বিক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া ১৯৭৫ সালে প্রত্নস্থলটি ভ্রমণ করে জানান, তখনো এর বিশেষ পরিবর্তন ঘটেনি: তখনো ঢিবিটি ৯ মিটার উঁচু ও বেড় ছিল প্রায় ২১২ মিটার। তবে তিনি জানান, ঢিবির চারদিকের ভূমি প্রায় সমতল অবস্থায় পেয়েছেন তিনি এবং ঘাসের মাঝে প্রচুর ইট দেখেছেন। তিনি জানান, সে স্থানটিকে ঢিবির অংশ ধরলে ঢিবির পরিধি হবে ৪২৪ মিটার।

প্রথমদিকে মঠের ধারণা করা হলেও ১৯৮৫ সালে এই ঢিবিতে আংশিক খনন চালানোর পরে মহাস্থানগড় সন্নিকটবর্তী গোকুলমেড়ের অনুরূপ এবং ভারতের উত্তর প্রদেশের আহিচ্ছত্রে প্রাপ্ত ইমারতের কাঠামোর মতোই একটি কাঠামো বেরিয়ে আসে। যতটুকু অক্ষত আছে, ততটুকু দেখে পুরাতাত্ত্বিকদের অনুমান যে, এটি একটি সুউচ্চ ইটের মঞ্চ, যার মাথায় বা শিরোদেশে ভূমি থেকে ১১.৮৮ মিটার (৩৮.৯৮ ফুট) উচ্চতায় একটি চারকোণা ইমারত তৈরি হয়েছিল।

মঞ্চ তৈরির জন্য শুরুতেই পরস্পর ভেদকারী কতগুলো সমান্তরাল দেয়াল নির্মিত হয়েছিল, যার ফলে মঞ্চটির মধ্যে কতগুলো আবদ্ধ প্রকোষ্ঠ তৈরি হয়েছিল। অবশ্য পরে শক্ত মাটি দিয়ে প্রকোষ্ঠগুলো ভরাট করে দেয়া হয়। খননের ফলে মাত্র ৪০টি প্রকোষ্ঠ বেরিয়ে এলেও এদের প্রকৃত সংখ্যা আরো বহুগূণ বেশি বলে পুরাতাত্ত্বিকদের ধারণা। আকার ও আয়তনে প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই।

মঞ্চের উপরের মূল ইমারতের কয়েকটি স্থানের মাত্র কয়েক স্তর ইট বর্তমানে (১৯৯৮) মূল অবস্থায় টিকে আছে, যার ভিত্তিতে পুরাতাত্ত্বিকদের ধারণা ভিত্তির দেয়ালগুলো ৭১ সেন্টিমিটার চওড়া ছিল। এছাড়াও এর চারপাশে আরো কিছু দেয়ালের অংশবিশেষ ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে এগুলো মূল নির্মাণ সময়কালের পরে নির্মিত হয়েছিল বলে পুরাতাত্বিকদের অনুমান। ইমারতটি সম্পূর্ণই কাদা ও ইট দিয়ে নির্মিত হয়েছিল।

ভরতভায়না ঢিবির সর্বোচ্চ স্থান থেকে সব মিলিয়ে ৬.৬৫ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন পরিচালিত হয়েছে (১৯৯৮), যার মধ্যে একটি উপস্তর ও সেই স্তরে আটটি উপস্তর লক্ষ্যণীয়। এছাড়া পুরাতাত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে নির্মাণের একটি সময়কাল ও পরবর্তিতে সংস্কারের আরেকটি সময়কাল প্রমাণিত হয়েছে। এপর্যন্ত (১৯৯৮) মোট ১২টি প্রত্নবস্তু আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে মানুষের মূর্তিখচিত পোড়ামাটির ফলকের ভাঙ্গা টুকরা, অলঙ্কৃত ইট, খোলামকুচি ও মৃন্ময় তেলের প্রদীপ উল্লেখযোগ্য। ইটের আকৃতি, উৎখননকৃত প্রত্নবস্তু আর ইমারতের স্থাপত্যিক নকশার উপর ভিত্তি করে ধারণা করা হয় এই প্রত্নক্ষেত্রটি আনুমানিক খ্রিস্টীয় ৭-৮ শতকের নিদর্শন। সূত্র: উইকিপিডিয়া

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password