ভ্রমণবন্ধু

সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 208

বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকো-পার্ক। ১৯৯৮ সালে ৮০৮ হেক্টর জায়গা নিয়ে ইকোপার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ইকোপার্ক। এশিয়া মহাদেশের মধ্যেও বৃহত্তম এ ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনটি। ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ১ হাজার ৯৯৬ একরের পার্কটি দুই অংশে বিভক্ত। এর মধ্যে ১ হাজার একর জায়গায় বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং ৯৯৬ একর জায়গা জুড়ে ইকোপার্ক এলাকা।

জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এবং পর্যটকদের বিনোদনের জন্য বন বিভাগের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা পার্কটিতে রয়েছে বিরল প্রজাতির গাছপালা, হাজারো রকমের নজরকাড়া ফুলের গাছ, কৃত্রিম লেক ও নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য। রয়েছে সুপ্তধারা ও সহস্রধারা ঝর্ণাসহ ঝিরিপথের ছোট-বড় বেশ কয়েকটি ঝর্ণা, পিকনিক স্পট, বিশ্রামের ছাউনি।

মূল ফটক পেরিয়ে একটু এগোলেই রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিস্তম্ভ। কবি এসেছিলেন পাহাড়ের এ জনপদে। এরই বিস্তারিত লেখা আছে স্তম্ভটির পাশে সাঁটানো সাইনবোর্ডে। এর কিছুদূর এগোলে ম্যাপে পার্কটির দর্শনীয় স্থান নির্দেশিত রয়েছে।

সেখানে নির্দেশিত পথ ধরে দেড় কিলোমিটার এগোলে সুপ্তধারা ঝর্ণার সাইন বোর্ড ‘সুপ্তধারা ঘুমিয়ে পড়ি জেগে উঠি বরষায়’। এরপর প্রায় এক কিলোমিটার পাহাড়ি ট্রেইল পেরিয়ে দেখা পাবেন অনিন্দ্যসুন্দর ঝর্ণা ‘সুপ্তধারা’র। আবার এক কিলোমিটার পর্যন্ত গেলে চোখে পড়বে সহস্রধারা ঝর্ণার সাইন বোর্ড। এই এক কিলোমিটার পথে রয়েছে পিকনিক স্পট, ওয়াচ টাওয়ার, হিম চত্বর। সেখানে সেট করা চেয়ারে বসে দূর সমুদ্রের রূপ চোখে পড়বে।

সহস্রধারা ঝর্ণা দেখে এসে বোটানিকাল গার্ডেনের উত্তরে গেলে চোখে পড়বে পাহাড় আর পাহাড়। সহস্র ধারা ও সুপ্তধারা ঝর্ণা থেকে বহমান জলকে কৃত্রিম বাঁধ তৈরির মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে কৃত্রিম লেক।

এ পার্কটির মূল আকর্ষণ চন্দ্রনাথ শিবমন্দির। টিকেট কাউন্টার থেকে মন্দির পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারের পথ পায়ে হেঁটে অথবা গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া যায়। মন্দিরের ভিত থেকে ২৫২টি সিঁড়ি এবং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ১৬০০ সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরে উঠতে হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজায় মগ্ন থাকেন এখানে। ফাল্গুনে শিবসংক্রান্তি পূজার সময় দেশ বিদেশের বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীদের কীর্তনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো চন্দ্রনাথ। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উচ্চতা ৪১০ মিটার।

এখানে চোখে পড়বে পাহাড়ে জন্মানো নানা প্রজাতির ফুল। এখানে রয়েছে দুর্লভ কালো গোলাপসহ প্রায় ৩৫ প্রকার গোলাপ, জবা, নাইট কুইন, পদ্ম, স্থলপদ্ম, নাগবল্লী, রঙ্গন, রাধাচূঁড়া, কামিনী, কাঠ মালতী, অলকানন্দা, বাগানবিলাস, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, ফনিকা মিলে রয়েছে ১৫০ জাতের ফুল।

পার্কের চিরসবুজ বনাঞ্চলের প্রায় ১৫৪টি প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে গর্জন, ডেউয়া, হলদু, গুটগুটিয়া, বাঁশপাতা, জারুল, পলাশ, ডুমুর, শিমুল, আমলকি, হরিতকি, বহেরা, নিম উল্লেখযোগ্য। বিরল প্রজাতির সাইকাস পার্কটিকে ঐতিহ্যের অংশ করেছে। পার্কটিতে রয়েছে বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা যেমন জলপাই, শাল, কাঁঠাল, আমলকি, গর্জন, কড়ই, নিম, বকাইন, চিকরাশি, সেগুন, জাম, সিভিট, সোনালু, জীবন গাছ ইত্যাদি।

এখানে পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে দেখতে পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আর বন্যপ্রাণীর। পার্কটিতে রয়েছে মায়া হরিণ, বানর, হনুমান, শূকর, সজারু, মেছোবাঘ, ভালুক, বনরুই ও বনমোরগ। এছাড়াও আছে দাড়াঁশ, গোখরা, কালন্তি, লাউডগাসহ নানা প্রজাতির সাপ ও জলজ প্রাণী।

এছাড়া অবজারভেশন টাওয়ার, পিকনিক স্পট, অর্কিড হাউস, ক্লোনাল হাউস, ক্যাকটাস হাউস, গোলাপ বাগান ও মৌসুমী ফুলের বাগান, ডিসপ্লে ম্যাপ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষ্কর্য, বিশ্রামাগার, শাপলাসমেত পুকুর পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

যেভাবে যাবেন:

বিআরটিসির বাসগুলো ছাড়ে ঢাকা কমলাপুর টার্মিনাল থেকে। আর অন্যান্য এসি, ননএসি বাস ছাড়ে সায়দাবাদ থেকে। আরামদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য সার্ভিসগুলো হল এস.আলম ও সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভূতি। সবগুলো বাসই সীতাকুণ্ডে থামে। সীতাকুন্ড বাস স্ট্যান্ড থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দক্ষিণে ফকিরহাট নামক স্থান দিয়ে এ পার্কে প্রবেশ করতে হয়।

এছাড়া রেলপথেও যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগামী ট্রেন “ঢাকা মেইল”-ই শুধু সীতাকুণ্ডে থামে, এটি ঢাকা থেকে ছাড়ে রাত ১১টায় এবং সীতাকুণ্ডে পৌঁছে পরদিন সকাল ৬.৩০ থেকে ৭টায়। অন্যান্য আন্তঃ নগর ট্রেনগুলো সরাসরি চট্টগ্রামে চলে যায়। শুধুমাত্র শিবর্তুদশী মেলার সময় সীতাকুণ্ডে থামে।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password