ভ্রমণবন্ধু

বালিয়া মসজিদ - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 113

বালিয়া মসজিদ অথবা ছোট বালিয়া জামে মসজিদ। মসজিদটি জ্বীনের মসজিদ নামেও পরিচিত। এটি ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে পঞ্চগড় এর বোদা উপজেলা যাওয়ার পথে ভূল্লী হাট নামক জায়গা থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে ভূল্লী-পাঁচপীর হাট সড়কের পাশে অবস্থিত।

লোককথায় প্রচলিত আছে, কোনো এক অমাবস্যার রাতে জ্বীন-পরীরা এই এলাকার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এলাকাটি পছন্দ করে। পরে তারা মাটিতে নেমে এসে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করে। কিন্তু গম্বুজ তৈরির আগেই ভোর হয়ে যাওয়াতে কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যায়। আর গম্বুজ ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকে অসাধারণ কারুকার্যময় মসজিদটি। জ্বীন-পরীরা এটি তৈরি করেছে বলে স্থানীয়রা কাছে এটিক্যা জ্বীনের মসজিদ নাম দিয়েছে।

মসজিদটি নির্মাণের সাল নিয়ে অনেক মতবিরোধ রয়েছে। মসজিদের গায়ে যে সাল খোদাই করা আছে তা হচ্ছে ১৩১৭ বঙ্গাব্দ; মানে ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দ। আর মসজিদের আসল নির্মাতা মেহের বকস চৌধুরীর কবরেও তার মৃত্যুর সাল খোদাই করা আছে ১৩১৭ বঙ্গাব্দ। তবে স্থানীয় মানুষ ও মেহের বকস এর আত্মীয়-স্বজনরা বলেন, উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকেই বালিয়া মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল এবং মেহের বকসের মৃত্যুর সময়েই মসজিদটির বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়ে যায়।

জমিদার মেহের বকস চৌধুরী উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বালিয়াতে এক মসজিদ তৈরীর পরিকল্পনা করেন। পরে দিল্লির আগ্রা মতান্তরে মুর্শিদাবাদ থেকে স্থপতি আনা হয়। মুঘল স্থাপত্যের রীতি অনুযায়ী ডিজাইনকৃত এই মসজিদ তৈরি করাটা ছিল বেশ জটিল ও সময়ের ব্যাপার।

তবে প্রধান স্থপতির হঠাৎ মৃত্যুর ফলে মসজিদ নির্মাণের কাজ থেমে যায়। মেহের বকস স্থানীয় কারিগরের সহায়তায় পুনরায় মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় কারিগরেরা মসজিদের গম্বুজ নির্মাণে ব্যর্থ হন। ১৯১০ সালে মেহের বকস চৌধুরী মৃত্যুবরণ করার পর মেহের বকসের ছোট ভাই কয়েক বছর পর মসজিদটি নির্মাণের জন্য আবারও উদ্যোগ নেন। তবে তিনিও নির্মাণ কাজ সমাপ্ত না করে মৃত্যু বরণ করেন। যার ফলে মসজিদটি ১০০ বছর গম্বুজ ছাড়াই দাঁড়িয়ে থাকে।

শেষে মেহের বকস চৌধুরীর প্রোপৌত্রি তসরিফা খাতুনের উদ্যোগে ও প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের কারিগরী সহায়তায় ২০১০ সালে বালিয়া মসজিদটির পুনরায় সংস্কার কাজ শুরু হয়।

সমতল ভূমি থেকে ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি উঁচু প্লাটফর্মের ওপর পূর্ব-পশ্চিমে ৬২ ফুট ৬ ইঞ্চি ও উত্তর-দক্ষিণে ৬৯ ফুট ২ ইঞ্চি আয়তাকার কমপ্লেক্সে মসজিদটি অবস্থিত। আয়তাকার কমপ্লেক্সটি সিঁড়িসহ প্রবেশপথ, খোলা চত্বর ও মূলভবন বা নামাজঘর এই তিন অংশে বিভক্ত। তার মধ্যে মূল ভবনটি পূর্ব-পশ্চিমে ২৫ ফুট ১১ ইঞ্চি প্রশস্ত। প্লাটফর্ম থেকে মসজিদটির ছাদ ১৭ ফুট উঁচু।

মসজিদের ছাদে একই সাইজের তিনটি গম্বুজ ও আটটি মিনার আছে। যার মধ্যে চার কোণের চারটি মিনার বড় এবং বাকী চারটি ছোট। ভিত্তিসহ পুরো মসজিদটিই চুন-সুরকির মর্টার এবং হাতে পোড়ানো ইট দিয়ে নির্মিত। ইটে কোনো অলঙ্করণ না থাকলেও মসজিদের দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ইট কেটে কলস, ঘণ্টা, ডিশ, বাটি, আমলকি, পদ্ম ইত্যাদি নকশা তৈরি করা হয়েছে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও সরাসরি বাস আছে। ঠাকুরগাঁও পৌঁছে রিক্সা নিয়ে ভুল্লি বাজার হয়ে বালিয়া যাওয়া যায়।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password