ভ্রমণবন্ধু

বামনডাঙ্গা জমিদার বাড়ি - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 177

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক বামনডাঙ্গা জমিদার বাড়ি। উত্তর জনপদের এ অঞ্চলটিতে ঠিক কবে থেকে জমিদারদের গোড়াপত্তন হয়েছে সে ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্য এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

কথিত আছে, পনের শতকের দিকে সম্রাট আকবরের শাসনামলে পরাজিত ও রাজ্যচ্যুত গৌড় বংশীয় ব্রাহ্মণ কৃষ্ণকান্ত রায় এ অঞ্চলে পালিয়ে এসেছিলেন। সেই সময়টাতেই বামনডাঙ্গার জমিদারদের নামডাক ছড়িয়ে পড়েছিল। তাছাড়া সেই সময় এই অঞ্চলে প্রজাদের মাঝে সর্বদা সুখ-শান্তি বজায় ছিল। যার ফলে এই এলাকার নাম হয়েছিল সর্বানন্দ।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইংরেজ শাসনামলে ১৮৯৩ সালে কোম্পানির গভর্নর লর্ড কর্নওয়ালিশের জারি করা আইনের ফলে জমিদারের বংশধররা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত লাভ করেন। এদের অতীত বংশধরদের সঠিক পরিচয় না জানা গেলেও নবম অথবা দশম বংশধরের নাম ব্রজেশ্বর রায় চৌধুরী।

ব্রজেশ্বর রায় চৌধুরীর একমাত্র পুত্র হলেন নবীন রায় চৌধুরী। বাবার মৃত্যুর পর তিনি জমিদারী গ্রহণ করেন। তার আমলে এই রাজবাড়ির নামডাক চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০২ সালে তার দুই পুত্র শরৎ রায় চৌধুরী ও বিপীন রায় চৌধুরী জমিদারি লাভ করেন। আর অন্য দুই পুত্র মনীন্দ্র রায় চৌধুরী ও জগৎ রায় চৌধুরী ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে পৃথক জমিদারি লাভ করেন। শরৎ রায় চৌধুরীর কোনো সন্তান ছিল না। অন্যদিক বিপনী রায় চৌধুরীর ছিল একটি মেয়ে সুনীতি বালা দেবী। তিনি তাদের মৃত্যুর পর বামনডাঙ্গার জমিদারি লাভ করেন।

জমিদারি লাভের আগেই সুনীতি বালা দেবীর বিয়ে হয়েছিল দিনাজপুর জেলার ভাতুরিয়ার প্রিয়নাথ পাকড়াশীর সাথে। জনশ্রুতি রয়েছে, সুনীতি বালা দেবীর একটি গাভী ছিল। কলাপাতায় করে লবণ না খাওয়ালে সেই গাভী দুধ দিত না। তার বাসগৃহের কাছেই ছিল একটি দূর্গামন্দির। আরো ছিল পিরামিডের মত ৩টি মঠ, যা পূর্বপুরুষদের স্মৃতিসৌধ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিছু মানুষ অবশ্য এগুলোকে রাজবাড়ির হাওয়াখানাও বলে থাকে। এ রাজবাড়িতে আছে বাবুর দীঘি ও নয়ার হাট নামে দুটি সরোবর।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, নয়ার হাট দীঘিতে সারারাত সোনার চালুন ভেসে থাকত আর বাবুর দীঘিতে বড় আকারের কালো পাথর ভেসে থাকতো।শোনা যায় এই পাথর ভাসাকালীন সময়ে পানির রংও কালো হয়ে যেত। চালুন ও পাথরের ভয়ে এখনও দীঘিতে অনেকে নামতে ভয় পান। আরো একটি কাহিনী রয়েছে সেটি হলো, একবার সুনীতি বালা দেবী ১০০ হাতি নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে আসছিলেন পথিমধ্যে আলাইরপুরে একটি সেতু ভাঙ্গা অবস্থায় দেখতে পান। ঠিক সেই রাতের মধ্যেই তিনি সেতুটি নির্মাণ করান এবং শালু কাপড় বিছিয়ে খাল পার হন।

এরকমই অনেক কিংবদন্তী ও ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে বামনডাঙ্গা জমিদারবাড়িটি পরিচিতি লাভ করে ধীরে ধীরে। তবে বর্তমানে জমিদার বাড়িটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। অনেক আগেই বাসগৃহ, অতিথিশালা, রাজদরবার, দূর্গামন্দির, মঠ, ট্রেজার, গোশালাসহ অন্যান্য নিদর্শনগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password