ভ্রমণবন্ধু

ফুকেট ট্যুর; জনপ্রিয় কিছু স্থান, বিচ আর খাবার - Hosted By

Not review yet
3
Add Review Viewed - 129

আপনার পরবর্তী ভ্যাকেশন যদি দেশের বাইরে কাটাতে চান তাহলে চট করে প্ল্যান করে ফেলতে পারেন থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় দ্বীপ ফুকেট ট্যুর । ভ্রমণপিপাসু সবাই কমবেশি জানেন কিংবা গিয়েছেন এই অদ্ভূত সুন্দর জায়গাটিতে।

থাইল্যান্ডের সরকারি হিসেবে প্রতিদিন এখানে দেশ-বিদেশের পর্যটকের সংখ্যা পঁচিশ হাজারেরও বেশি। একবার গেলেই বুঝতে পারবেন কেন এই পর্যটন কেন্দ্রটি এত জনপ্রিয়।

আবহাওয়াঃ
ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার প্রয়োজন এবং পছন্দের সাথে মিল রেখে সেখানকার আবহাওয়ার সাথে পরিচিতি রাখা ভালো। প্রায় সারা বছরই ফুকেটের আবহাওয়া কিছুটা গরম ও আদ্র থাকে। তবে গরমের প্রভাব বেশি থাকে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত। মে’র শেষ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গরমের সাথে কিছুটা বৃষ্টিও হয়। এ সময় সকাল-দুপুর পুরোটা সময় সূর্যের আলো পাওয়া যায় এবং পানি স্বচ্ছ থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টির ফলে পানির স্বচ্ছতা কমে আসে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোটামোটি শীতকাল ধরা হয়। তবে শীতের কাপড় পড়ার মতো ঠাণ্ডা আবহাওয়া নয়, সহনীয় তাপমাত্রা থাকে; প্রায় ২৫-৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ফুকেট ট্যুর মানেই বিচ ট্যুর
ফুকেট শহর (Phuket City):
ফুকেট দ্বীপের সবচেয়ে জমজমাট স্থান হলো ফুকেট সিটি। কেনাকাটার জন্য উপযুক্ত জায়গা এটি। শহরের চিকন রাস্তাজুড়েই পাবেন পছন্দসই রেস্টুরেন্ট, বুটিক শপ আর অসাধারন সব গিফটের দোকান। প্রচুর লোকাল মার্কেট রয়েছে এখানে; বিশেষ করে ছুটির দিন স্পেশাল কিছু লোকাল দোকান বসে। এমনকি হাজার বছরের ঐতিহ্য তারা ধরে রেখেছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক নকশাখচিত বস্তুসামগ্রীর মাধ্যমে। এখানকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনি যখনই ফুকেট ট্যুর করতে যান না কেনো পর্যাপ্ত পরিমাণ হোটেলের ব্যবস্থা সেখানে আছে। তাই যারা এখনো যাননি তারা বছরে একবার সময় করে ঘুরে আসতে পারেন স্বপ্নের এই শহরে।

ফুকেট বিচ (Phuket Beach):
এখানকার সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, যেকোনো ধরনের ট্রিপের জন্য এটি সেরা জায়গা। যেমন কেউ যদি অত্যন্ত রোমান্টিক সময় কাটাতে চান, কেউ যদি চান শুধু নিজের জন্য, কেউ আবার পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে হইহুল্লোড়ে কাটাতে চান, এ সব ধরনের ব্যবস্থাই রয়েছে ফুকেটে। এখানে উপভোগ করা যাবে স্কুবা ডাইভিং, কায়াকিং ও ক্যানোইং, স্নোরকেলিং, জেট বোট ও স্পিড বোট, স্ট্যান্ড-আপ প্যাডেল বোর্ডিং, হোয়াইট ওয়াটার রাফটিং, ওয়াটার স্কিইং ও জেট স্কিইং আরও বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টস। যারা সমুদ্রপ্রেমী তারা মে থেকে অক্টোবরে ফুকেট ট্যুর করতে গেলে দেখতে পারবেন সমুদ্রে ঢেউয়ের ভেলকি।

পাতং বিচ (Patong Beach):
বেশ ব্যস্ততম একটি বিচ বলা যায় একে। প্রচুর পর্যটকের সমাগম। এই বিচের প্রধান আকর্ষণ হলো রাতের আয়োজন। সন্ধ্যা নামলেই এখানে শুরু হয় নানা ধরনের পার্টির আয়োজন। যদিও পার্টিতে যোগ দিতে হলে আলাদাভাবে খরচ করতে হয়। এখানে অসংখ্য হোটেল, তুলনামূলক কম খরচের ছোট রিসোর্ট, চমৎকার রেস্টুরেন্ট, বার, ক্লাব, প্রচুর দোকানপাট পাবেন। মোটকথা এক জায়গায় বসেই অনেক কিছু উপভোগ করার মতো একটি বিচ পাতং। তবে কোথাও কেউ ‘ফ্রি’ ড্রিং অফার করলেও তা নেবেন না। নিলেই গুনতে হবে আট গুন বেশি মূল্য।

কাতা নই বিচ (Kata Noi Beach):
অন্যান্য বিচ থেকে অনেকটাই আলদা এই বিচ। ভিড় এড়িয়ে বেড়াতে চাইলে চলে যাবেন কাতা নই বিচে। শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশে পরিবার নিয়ে নিজের মতো করে ঘুরতে পারবেন। আর সাথে ছোট বাচ্চা থাকলে অবশ্যই এখানেই সারাদিনের ট্রিপটা সেরে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কাতা বিচ (Kata Beach):
এই বিচের রাতের পরিবেশটা তুলনামূলকভাবে আনন্দদায়ক। তবে পাতং বিচের মতো অতিমাত্রায় ব্যস্ত নয় এটি। সব বয়সীদের নিয়ে বেশ মনোরম ও শান্ত পরিবেশে কাটাতে পারেন সময়। এখানকার রেস্টুরেন্টগুলোও বেশ ভালো, মিড রেঞ্জের খাবার ভালো পাবেন এখানে। যদিও একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব একটু বেশি। লম্বা এ বিচে রয়েছে দেখার মতো অনেক জায়গা, আছে কেনাকাটার জন্য চমৎকার দোকান। সার্ফিং এর জন্য জনপ্রিয় কাতা বিচ; বিশেষ করে মে থেকে নভেম্বর মাসে।

মাই খাও বিচ (Mai Khao Beach):
ফুকেটের সবচেয়ে লম্বা বিচ এটি। এখানে লাক্সারি রিসোর্টের সংখ্যা বেশি। যারা বিয়ের পর হানিমুনে যেতে চান কিংবা আয়েশে সময় কাটাতে চান তাদের জন্য উপযুক্ত বিচ। খরচাপাতি একটু বেশি হলেও একেবারে নিরিবিলি পরিবেশ। রাতের বেলা খুব বেশি কিছুর আয়োজন নেই। আর কেনাকাটা করার অপশনও কম। এয়ারপোর্ট অবশ্য এখান থেকে খুব কাছে।

ব্যাং তাও বিচ (Bang Tao Beach):
ফুকেটের দ্বিতীয় দীর্ঘতম বিচ এটি। মাই খাও বিচের ঠিক বিপরীত। মানে লাক্সারির পাশাপাশি বেশ কম বাজেটেও আপনি অনেক রিসোর্ট পাবেন। এছাড়াও সার্ফিং, রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে শপিং, রাতের পার্টি সবই উপভোগ করতে পারবেন পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে।

ক্যারন বিচ (Karon Beach):
ফুকেটের তৃতীয় দীর্ঘতম বিচ। অনেকে একে পাতং বিচের ছোট ভার্শন বলে থাকেন। দিনে ও রাতে মোটামোটি শান্ত পরিবেশ। বেশ পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম। ছোট বড় সব বাজেটের রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্ট রয়েছে। দেদারসে শপিং করতে পারবেন। ছোট ছোট সুভেনিরের জন্য উপযুক্ত জায়গা।

যেসব ট্যুরিস্ট স্পট দেখলে পরিপূর্ন হবে ফুকেট ট্যুর

ফুকেট ত্রিকাই মিউজিয়াম (Phuket Trickeye museum):
সব বয়সীরাই যাদুঘরটি পছন্দ করবে। এখানে রয়েছে প্রচুর ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি সম্পন্ন ছবির গ্যালারি যা দেখলে কোনো বর্ণনার প্রয়োজন হয়না। ছবিগুলো নিঃসন্দেহে যে কারো সৃজনশীলতা এবং কল্পনাকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই মিউজিয়াম।

ফুকেট অ্যাকুরিয়াম (Phuket Aquarium):
সমুদ্রের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এখানে। সামুদ্রিক মাছ ছাড়াও যে কত ধরনের জলজ প্রানীদের বসবাস তা এখানে আসলে কিছুটা দেখার সুযোগ মেলে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

বাংলা রোড (Bangla Road):
ফুকেটের জনপ্রিয় ব্যস্ততম জায়গাগুলোর মধ্যে এটি একটি। সূর্যাস্তের পর থেকে এখানে শুরু হয় বিভিন্ন ব্যস্ততা, ক্লাব আর পার্টি। খাবারো বেশ ভালো। সেজন্য সন্ধ্যা নামলেই এখানে যাওয়ার প্ল্যান করবেন। এখানে অবশ্য বাচ্চাদের নিয়ে না যাওয়াটাই উত্তম।

দ্য কিডস ক্লাব ফুকেট (The Kids Club Phuket):
এটি বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ জায়গা, যেখানে আপনি আপনার শিশুকে খেলতে দিয়ে নিজের মতো পেছনে বসে কফি খেতে পারবেন। শিশু এবং বড়দের জন্য খুবই ভালো খাবারের ব্যবস্থা আছে এখানে। এমনকি বেবিসিটিং এর ব্যবস্থাও আছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আপনার শিশুদের এখানে রেখে আপনি কয়েক ঘণ্টার শপিং সেরে আসতে পারেন।

কোকচাং সাফারি এলিফ্যান্ট ট্রেকিং (Kok Chang Safari Elephant Trekking):
কাতা বিচের খুব কাছেই এর অবস্থান। হাতি থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাতির হিংস্রতার কথা চিন্তা করে অনেকে এখানে আসতে চাননা। তবে এখানকার হাতিদের খুব যত্নে রাখা হয় এবং প্রশিক্ষণ দেয়া হয় যেন তারা পর্যটকদের আনন্দ দিতে পারে।

ফুকেট ফান্টা সি (FantaSea):
পুরো পরিবার নিয়ে এখানে মজার কিছু সময় কাটাতে পারবেন। বিশেষ করে যারা বিনোদন পার্ক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পছন্দ করেন এটা তাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা। এছাড়াও রয়েছে সাংস্কৃতিক থিম পার্ক, থিয়েটার পারফর্মেন্স, অদ্ভুত প্রানীদের সার্কাস, ইত্যাদি। তবে মনে করে সাদা বাঘ দেখতে ভুলবেন না। আর সম্ভব হলে পুরো জায়গাটা ঘুরে আসবেন। তবে সাথে কোনো ধরনের রেকর্ডিং ইকুইপমেন্ট নেবেন না। এসব নিয়ে ভেতরে প্রবেশ নিষেধ।

ওয়াটার পার্ক (Water Park):
২ টি দারুন ওয়াটার পার্ক আছে- একটি কাতা বিচে পাবেন; নাম- সার্ফ হাউজ (Surf House), আরেকটি স্প্ল্যাশ জাংগাল (Splash Jungle) ওয়াটার পার্ক। কাতা বিচে রয়েছে সার্ফ হাউজ। এখানে হাই প্রেশারের পানির ঢেউ উপভোগ করতে পারবেন। ভয়ের কিছু নেই আপনি চাইলেও ডুবে যাবেন না। পরিবারের ছোট বড় সবাই এটি উপভোগ করতে পারেন। আর স্প্ল্যাশ জাংগাল ওয়াটার পার্ক রয়েছে মাই খাও বিচে। বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার রাইড পাবেন এখানে। অবশ্য এখানে নিজস্ব খাবার কিংবা পানীয় নিয়ে প্রবেশ নিষেধ।

বিগ বুদ্ধ ফুকেট (Big Buddha):
সকালে উঠেই চলে যেতে পারেন অসম্ভব সুন্দর এই দর্শনীয় স্থানটিতে। সুবিশাল এই মূর্তিটি ৪৫ মিটার/ ১৪৮ ফুট উচুঁ। সাদা মার্বেল পাথরে আবৃত এই বিগ বুদ্ধটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪০০ মিটার ওপরে অবস্থান করছে।

ফ্লাইং হনুমান (Flying Hanuman):
যাদের উচ্চতা নিয়ে সমস্যা নেই অর্থাৎ হাইট ফোবিয়া নেই তারা এখানে অবশ্যই যাবেন। এখানকার গাইড আপনাকে উৎসাহিত করবে যেন আপনি কোনোভাবে ভয় না পান।

ফাং এনগা বে (Phang Nga Bay):
কয়েকটি সারিবদ্ধ ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত অত্যন্ত সুন্দর এই জায়গাটি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। এখানে আছে বেশ কয়েকটি গুহা, যার ভেতর হিম শীতল আবহাওয়া, আছে স্কুবি ডু রক যা দেখতে কার্টুনের কুকুরটির মতো, রয়েছে আইসক্রিম গুহাও। সবমিলে ভালো কিছু সময় কাটাতে পারবেন পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে।

জেমস বন্ড আইল্যান্ড (James Bond Island):
এটি অতন্ত্য জনপ্রিয় একটি জায়গা। ফাং এনগা বে’র পাশেই এটি অবস্থিত। মূলত হলিউড অভিনেতা জেমস বন্ডের “দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান” সিনেমার কিছু শুটিং এখানে করায় এর নামকরন করা হয়েছে। নৌকা নিয়েও ঘুরে আসতে পারবেন এর চারপাশে। এখানে আসলে উপভোগ করতে পারবেন সেইলিং এবং কায়াকিং।

খাবারঃ
তাতোংকা রেস্টুরেন্ট (Tatonka):

বন্ধুবান্ধব কিংবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে খেতে পারেন। এটি ব্যাংতাও বিচের পাশেই অবস্থিত। খুব সুন্দর পরিবেশ এবং খাবারও মজা। বাচ্চাদের জন্যও অনেক মজার খাবারের ব্যবস্থা আছে। কাছাকাছি কোথাও থাকলে তাতোংকায় কল করলেই পেয়ে যাবনে ফ্রি পরিবহন।

তাওয়াই থাই রেস্টুরেন্ট (Tawai Thai):
ঐতিহ্যবাহী থাই খাবার খেতে চাইলে এখানে চলে যাবেন। বিশেষ করে স্যুপ আইটেমগুলো অসাধারন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এখানকার লোকজনের আচরণ ভালো আর খাবারও অত্যন্ত ফ্রেশ।

হার্ড রক ক্যাফে (Hard Rock):
পাতং বিচের মাঝামাঝি এলে পাবেন এই দোতলা রেস্টুরেন্ট। এখানে ওয়েস্টার্ন এবং ইস্টার্ন সব খাবার খেতে পারবেন। পাশাপাশি উপভোগ করতে পারবেন এই দুই ধাচের লাইভ ব্যান্ড মিউজিক।

অজি বার (Aussie Bar):
এটি একটি বার ও ক্লাব। অস্ট্রেলিয়ান খাবারের পাশাপাশি এখানে পাবেন তাদের ঐতিহ্যবাহী পানীয়, পার্টি উপভোগের সুযোগ। প্রচুর অস্ট্রেলিয়ান পর্যটক এখানে আসেন। যেহেতু বার এবং ক্লাব সেহেতু ছোটদের এখানে না আনাই ভালো। অস্ট্রেলিয়ান খাবারের সাথে এখানে থাই খাবারো বেশ ভালো। ফ্রি ওয়াইফাই এর সুবিধা তো আছেই। তবে খুব সাবধানতার সাথে টেবিলে বসবেন যেন আপনার হাতে ভুলে চাপ লেগে বেল না বেজে উঠে। বেল বাজানো মানে বুঝতে হবে আপনি তাদেরকে বিয়ার অর্ডার করেছেন।

ইল্যুজিয়্যন (Illuzion):
আপনি ক্লাব ও ডিস্কো পছন্দ করে থাকলে এখানে যেতে পারেন। বাংলা রোডেই এটি পেয়ে যাবেন। এর বাইরে অনেকেই ফ্রি এনট্রি পাস দিয়ে থাকেন। খুঁজলে আপনিও পেয়ে যাবেন। ঢুকেই মনে হবে ড্যান্স ফ্লোর আপনার। সাথে চাইলে পাবেন পছন্দমতো পানীয়। ভেতরে তিনটি হলরুম। চলে হিপহপ মিউজিক, রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ডি জে, আন্ডারগ্রাউন্ড সেট। ৫ হাজার মানুষ একসাথে দাঁড়িয়ে মিউজিক উপভোগ করতে পারে এখানে। সাথে রয়েছে ৩০০ ভি আই পি টেবিল। রাত ১২টার পর শুরু হয় আসল নাইট ক্লাব।

দ্য বোটহাউজ রেস্টুরেন্ট (The Boathouse Restaurent):

ফুকেটে এসে ককটেল বানিয়ে খাবেন না তা তো হয়না। এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা এটি। এখানে ককটেল বানাবার একটা ওয়ার্কশপ আছে। একফাঁকে এসে তাও সেরে নিতে পারেন। এমনকি চালং বে তেও এই ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা আছে। জনপ্রিয় এই রেস্টুরেন্টটি একটি বোটে সাজানো। সাথে পাচ্ছেন সমুদ্রের অসাধারণ দৃশ্য।

নাকা মার্কেট (Naka Market):

মুখরোচক খাবারে ভর্তি এই স্ট্রিটফুড। যারা ভোজনরসিক এবং কিছুটা সস্তায় পেটপুরে খেতে চান, চলে যাবেন এই জায়গায়। থাই খাবার তো আছেই সাথে আছে আমেরিকান স্তাইল ফ্রাইড চিকেন, তরতাজা সামুদ্রিক মাছ এবং মাংসের বার-বি-কিউ। এছাড়াও রয়েছে তাজা ফলের জুস, মিষ্টি খাবার, জনপ্রিয় কোকোনাট আইসক্রিম। স্পাইসি খাবারগুলো খেলে এর স্বাদ কখনো ভুলবেন না।

ফুকেট ট্যুর করার আগে জেনে নিন :
• অবশ্যই স্ট্রিট ফুড চেখে দেখবেন
• চেষ্টা করবেন বাইক ভাড়া করে জায়গাটি ঘুরে দেখতে। এতে সময়ও বাঁচবে, খরচও কমে আসবে।
• যেকোনো ক্ষেত্রে দর কষাকষি করবেন। কেননা ট্যুরিস্টদের কাছে এমনিতেই দাম বাড়িয়ে চায়
• ভুলেও ট্যাক্সি কিংবা টুকটুক ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করবেন না “How much”। আগে থেকেই বিশ্বাসযোগ্য গাইড কিংবা হোটেলের লোকজনের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন কত কিলোর খরচ কত। কিংবা মিটারে গেলেও ড্রাইভার আগে থেকে মিটার অন করে রেখেছে কিনা তা দেখে নেবেন।
• এক দশকে থাইল্যান্ডে সবকিছু যে পরিমান সস্তা ছিল, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সব কিছুর দাম। এজন্য ভুলেও মনে করবেননা অল্প টাকায় থাইল্যান্ড ঘুরতে পারবেন। যদি পারেনও হাতে বাড়তি কিছু টাকা রেখে দেয়া ভালো।
• শুধু বিচের স্পোর্টস কিংবা ক্লাবগুলোতে না গিয়ে আশপাশের যেমন আং থং ন্যাশনাল মেরিন পার্কে বেশ কম খরচে সবকিছুই উপভোগ করতে পারেন।
• ভীড় এড়াতে চাইলে অফ সিজনে করুন ফুকেট ট্যুর ।
• ইংরেজি জানা না থাকলে চলতে ফিরতে টুকটাক শব্দগুলো জেনে যান অথবা লিখে নিয়ে যান।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password