ভ্রমণবন্ধু

ফুকেটের যে বিচগুলো ভ্রমণপ্রিয় মানুষের স্বর্গরাজ্য - Hosted By

Not review yet
5
Add Review Viewed - 129

সাধ্যের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হতে পারে থাইল্যান্ডের দ্বীপ ফুকেট। ভ্রমণপিপাসু সবাই কমবেশি জানেন কিংবা গিয়েছেন অদ্ভূত সুন্দর এই জায়গাটিতে। ফুকেটের আশপাশ জুড়ে রয়েছে আরো ৩২টি ছোট ছোট দ্বীপ। আর এসব দ্বীপের বিচগুলো বৈশিষ্টের কারণে একটি থেকে অন্যটি বেশি সুন্দর। ফুকেট ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণও হলো এসব বিচ।

সমুদ্রের নীল জলরাশি, সাদা বালুময় বিচ, আর নীল সমুদ্রের মাঝে পাহাড় জঙ্গল ভরা ছোট ছোট নির্জন দ্বীপের সৌন্দর্য যেকোনো পর্যটককে নিয়ে যাবে কল্পনার স্বর্গরাজ্যে। ফুকেটের এমনই কয়েকটি বিচ সম্পর্কে জানিয়েছেন জিনাত আরেফিন তানহা

ফুকেট বিচ:
এখানকার সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, যেকোনো ধরনের ট্রিপের জন্য এটি সেরা জায়গা। কেউ যদি অত্যন্ত রোমান্টিক সময় কাটাতে চান, কেউ যদি চান শুধু নিজের জন্য, কেউ আবার পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে হইহুল্লোড় করে কাটাতে চান; তাহলে সব ধরনের ব্যবস্থাই রয়েছে ফুকেটে। সূর্যের আলোতে চিকচিক করা সাদা বালি আর স্বচ্ছ পানি সহজেই আপনাকে মাতিয়ে তুলবে সমুদ্রস্নানে।

শুধু তাই নয়, চাইলে আপনি এখানে উপভোগ করতে পারবেন স্কুবা ডাইভিং, কায়াকিং ও ক্যানোইং, স্নোরকেলিং, জেট বোট ও স্পিড বোট, স্ট্যান্ড-আপ প্যাডেল বোর্ডিং, হোয়াইট ওয়াটার রাফটিং, ওয়াটার স্কিইং ও জেট স্কিইং আরো বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টস। যারা সমুদ্রপ্রেমী তারা মে থেকে অক্টোবরে ফুকেট সফরে গেলে দেখতে পারবেন সমুদ্রে ঢেউয়ের ভেলকি।

পাতং বিচ:
বেশ ব্যস্ততম একটি বিচ বলা যায় একে। প্রচুর পর্যটকের সমাগম। এই বিচের প্রধান আকর্ষণ হলো রাতের আয়োজন। সন্ধ্যা নামলেই এখানে শুরু হয় নানা ধরনের পার্টির আয়োজন। যদিও পার্টিতে যোগ দিতে হলে আলাদাভাবে খরচ করতে হয়। যারা বাজেট সচেতন তাদের জন্য বেশ ভালো বিচ পাতং। এখানে অসংখ্য হোটেল, পাবেন তুলনামূলক কম খরচের ছোট রিসোর্ট, চমৎকার সব রেস্টুরেন্ট, বার, ক্লাব, প্রচুর দোকানপাট। মোটকথা এক জায়গায় বসেই অনেক কিছু উপভোগ করার মতো একটি বিচ পাতং। তবে কোথাও কেউ ‘ফ্রি’ ড্রিংকস অফার করলেও তা নেবেন না। নিলেই গুনতে হবে আট গুন বেশি মূল্য।

কাতা নই বিচ:
অন্যান্য বিচ থেকে অনেকটাই আলাদা এই বিচ। ভিড় এড়িয়ে বেড়াতে চাইলে চলে যাবেন কাতা নই বিচে। শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশে পরিবার নিয়ে নিজের মতো করে ঘুরতে পারবেন। আর সাথে ছোট বাচ্চা থাকলে অবশ্যই এখানেই সারাদিনের ট্রিপটা সেরে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যান্য বিচের মতো হকাররা এসে আপনাকে বিরক্ত করবে না। এখানে অন্য সব বিচের মতো খুব বেশি সুবিধা নেই। তাই একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে আশপাশের বিচগুলোতে বেড়িয়ে আসলেও মন্দ হবে না।

কাতা বিচ:
এই বিচের রাতের পরিবেশটা তুলনামূলকভাবে আনন্দদায়ক। তবে পাতং বিচের মতো অতিমাত্রায় ব্যস্ত নয় এটি। সব বয়সীদের নিয়ে বেশ মনোরম ও শান্ত পরিবেশে কাটাতে পারেন সময়। মে থেকে নভেম্বর মাসে সার্ফিং এর জন্য জনপ্রিয় কাতা বিচ। এখানকার রেস্টুরেন্টগুলোও বেশ ভালো। মিড রেঞ্জের খাবার ভালো পাবেন এখানে। যদিও একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব একটু বেশি। লম্বা এ বিচে রয়েছে দেখার মতো অনেক জায়গা। আছে কেনাকাটার জন্য চমৎকার সব দোকান।

মাই খাও বিচ:
ফুকেটের সবচেয়ে লম্বা বিচ এটি, দৈর্ঘ্য ১১ কিলোমিটার। এখানে লাক্সারি রিসোর্টের সংখ্যা বেশি। যারা বিয়ের পর হানিমুনে যেতে চান কিংবা আয়েশে সময় কাটাতে চান তাদের জন্য উপযুক্ত বিচ। এটি আসলে অবসরযাপন অথবা নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য সেরা জায়গা। কিন্তু খরচাপাতি একটু বেশি। রাতের বেলা খুব বেশি কিছুর আয়োজন নেই। আর কেনাকাটা করার অপশনও কম। তবে এয়ারপোর্ট এখান থেকে খুব কাছে।

ব্যাংতাও বিচ:
ফুকেটের দ্বিতীয় দীর্ঘতম বিচ এটি। মাই খাও বিচের ঠিক বিপরীত। মানে লাক্সারির পাশাপাশি বেশ কম বাজেটেও আপনি অনেক রিসোর্ট পাবেন। এছাড়াও সার্ফিং, রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে শপিং, রাতের পার্টি সবই উপভোগ করতে পারবেন পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে।

ক্যারন বিচ:
ফুকেটের তৃতীয় দীর্ঘতম বিচ। অনেকে একে পাতং বিচের ছোট ভার্সন বলে থাকেন। দিনে ও রাতে মোটামোটি শান্ত পরিবেশ। বেশ পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম। ছোট বড় সব বাজেটের রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্ট রয়েছে। দেদারসে শপিং করতে পারবেন। ছোট ছোট সুভ্যেনিয়রের জন্য উপযুক্ত জায়গা।

ফুকেট ভ্রমণের আগে জেনে নিন:

• অবশ্যই স্ট্রিট ফুড চেখে দেখবেন।
• চেষ্টা করবেন বাইক ভাড়া করে জায়গাটি ঘুরে দেখতে। এতে সময়ও বাঁচবে, খরচও কমে আসবে।
• যেকোনো ক্ষেত্রে দর কষাকষি করবেন। কেননা ট্যুরিস্টদের কাছে এমনিতেই দাম বাড়িয়ে চায়।
• ভুলেও ট্যাক্সি কিংবা টুক টুক ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করবেন না “How much”। আগে থেকেই বিশ্বাসযোগ্য গাইডে কিংবা হোটেলের লোকজনের কাছ থেকে শুনে আসতে পারেন পার কিলোর খরচ কত। কিংবা মিটারে গেলেও ড্রাইভার আগে থেকে মিটার অন করে রেখেছে কিনা তা দেখে নেবেন।
• এক দশকে থাইল্যান্ডে সবকিছু যে পরিমান সস্তা ছিল, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সব কিছুর দাম। এজন্য ভুলেও মনে করবেন না অল্প টাকায় থাইল্যান্ড ঘুরতে পারবেন। যদি পারেনও হাতে বাড়তি কিছু টাকা রেখে দেয়া ভালো।
• শুধু বিচের স্পোর্টস কিংবা ক্লাবগুলোতে না গিয়ে আশপাশের যেমন আং থং ন্যাশনাল মেরিন পার্কে বেশ কম খরচে সবকিছুই উপভোগ করতে পারেন।
• ভিড় এড়াতে চাইলে থাইল্যডের অফ সিজনে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
• ইংরেজি জানা না থাকলে চলতে ফিরতে টুকটাক শব্দগুলো জেনে যান অথবা লিখে নিয়ে যান।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password