ভ্রমণবন্ধু

পঞ্চগড়; বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ - Hosted By

Not review yet
3
Add Review Viewed - 305

বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ পঞ্চগড় জেলা। অনেক আবর্তনের ফল আজকের এই পঞ্চগড়। এটি রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। জেলা হিসেবে নতুন এবং আয়তনে ছোট হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই স্থান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই জেলার তিন পাশেই রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। এখানকার মাটি বালুকাময় এবং পুরাতন হিমালয় বেসিনের মাটির সাথে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ।

পঞ্চগড় জেলার নামকরণ নিয়ে রয়েছে এক ঐতিহ্যপূর্ণ ইতিহাস। অনেকেই মনে করেন, এ অঞ্চলটি অতি প্রাচীনকালে ‘পুন্ডুনগর রাজ্যের অর্ন্তগত ‘পঞ্চনগরী’ নামে একটি অঞ্চল ছিল। কালক্রমে পঞ্চনগরী ‘পঞ্চগড়’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। ‘পঞ্চ’ (পাঁচ) গড়ের সমাহার ‘পঞ্চগড়’ নামটির অপভ্রাংশ ‘পঞ্চগড়’ দীর্ঘকাল এই জনপদে প্রচলিত ছিল। কিন্তু এই অঞ্চলের নাম যে, পঞ্চগড়ই ছিল সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না।

ভারতীয় উপমহাদেশে ‘পঞ্চ’ শব্দটি বিভিন্ন স্থানের নামের সাথে যুক্ত হয়েছে। যেমন- পঞ্চনদ, পঞ্চবটি, পঞ্চনগরী পঞ্চগৌড় ইত্যাদি। সুতরাং পঞ্চগৌড়ের একটি অংশ হিসেবে প্রাকৃত ভাষার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পঞ্চগড়ের নামকরণের সম্ভাবনা থেকে যায়। অর্থ্যাৎ পঞ্চগৌড়>পঞ্চগোড়>পঞ্চগড়। তবে বহুল প্রচলিত মত অনুযায়ী, এই অঞ্চলের পাঁচটি গড় (যথাক্রমে ভিতরগড়, দেবনগর, রাজনগর, মিরনগর, হোসেননগর) এর অবস্থানের কারণেই পঞ্চগড় নামটির উৎপত্তি।

আরেকটি সূত্র মতে, ‘পঞ্চ’ অর্থ ‘পাঁচ’ আর ‘গড়’ অর্থ হচ্ছে ‘বন বা জঙ্গল’। পাঁচটি গড়ের সমষ্টি হওয়ার কারণে এ অঞ্চলের নাম হয়েছে পঞ্চগড়। যদিও বিশ্বাস করা কঠিন; তারপরেও সত্যটা হল, দেশ ভাগ হওয়ার আগ পর্যন্তও এই পুরো এলাকাটি ছিল জনমানবহীন একটি জঙ্গল এলাকা। সে জঙ্গলে বন্য হাতী, অসংখ্যা প্রজাতির পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এমনকি বাঘ পর্যন্ত ছিল।

সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে এই পঞ্চগরের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের পুরোসময় জুড়ে এই এলাকাটি ছিল সংঘাতময়। যুদ্ধের সময় এলাকাটি ছিল ৬ নং সেক্টরের ভেতর। সাজানো এই পুরো শহরটিতে পাকবাহিনীরা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। তবে ৭১ এর ২১ নভেম্বর এই পুরো অঞ্চলটি স্বাধীনতা লাভ করেছিল।

ভিন্নমত থাকার পরেও জানা যায়, এই জনপদে মানব বসতি শুরু হয়েছে সভ্যতার শুরু থেকেই। বাংলাদেশের এই অঞ্চল বিভিন্ন শাসকগণের দ্বারা শাসিত হওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়েছে প্রত্ন নিদর্শন। আর এসব কিছুর মধ্যেই থেকে গেছে অতীতের প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যের স্মৃতি চিহ্ন। পর্যটন নগরী হিসেবে সব কিছুই বিদ্যমান রয়েছে জেলায়।

পঞ্চগড় জেলা থেকে হেমন্ত ও শীতকাল উপভোগ করা যায় খুব ভালোভাবে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় দৃশ্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে খুব বেশি। বাড়তি পাওনা হিসেবে যোগ হয়েছে সমতল ভূমিতে চা বাগানের অনবদ্য সৌন্দর্য্য। এখানেই রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র রকস মিউজিয়াম। আরো রয়েছে মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ডাকবাংলো, যেখান থেকে খুব সহজেই এপার বাংলা এবং ওপার বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

এসব জায়গা ছাড়াও পঞ্চগড়ে আরো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে মির্জাপুর শাহী মসজিদ, গোলকধাম মন্দির, মহারাজার দীঘি, বালিয়া মসজিদ, ভিতরগড় দুর্গনগরী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, এশিয়ান হাইওয়ে ইত্যাদি।

Listing Features

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Claim listing: পঞ্চগড়; বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password