ভ্রমণবন্ধু

নীলসাগর দীঘি - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 216

নীলসাগর একটি ঐতিহাসিক দীঘি। এই দীঘিটি নীলফামারী জেলা সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত৷ মোট ৫৩.৯০ একর জমির ওপর নীলসাগর দীঘির অবস্থান। তারমধ্যে জলভাগ ৩২.৭০ একর এবং পাড়ের জমির পরিমাণ ২১ একরের মতো।

ধারণা করা হয়, ঐতিহাসিক বৈদিক রাজা বিরাট এই দীঘিটি খনন করেছিলেন। তারপর থেকে এটি বিরাট দীঘি হিসেবেই পরিচিত ছিল৷ পরবর্তীতে অবশ্য বিন্না দীঘি নামেও পরিচিতি পায়। আর সর্বশেষ স্বাধীনতার পর থেকে এটি নীলসাগর নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এটি সংস্কার করে ভ্রমণ পিপাসুদের চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেক শীত মৌসুমে প্রচুর অতিথি পাখির সমাগম ঘটে এখানে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই বেশি বিখ্যাত এই নীলসাগর। এর চারিধারে রয়েছে নারকেল, বনবাবুল, আকাশমণি, মেহগনি, শিশুসহ নানান জাতের চেনা অচেনা ফুল ও ফলের গাছ। শীতকালে রাজহাঁস, মার্গেঞ্জার, ভুবনচিল, সবুজ চান্দি ফুটকি, বাচাল নীল ফুটকি ইত্যাদি অতিথি পাখিদের দেখা যায়।

আনুমানিক অষ্টম শতাব্দীতে কোনো এক সময়ে খননকাজ শুরু হয়েছিল নীলসাগর ‘বিরাট দীঘি’ ও ‘বিন্না দীঘি’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই দীঘিটির। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, নবম থেকে অষ্টম শতাব্দীতে পান্ডবরা কৌরবদের চক্রান্তের পরে ১২ বছরের বনবাস ও ১ বছরের অজ্ঞাতবাসে যেতে বাধ্য হন। তখন মৎস্য দেশের রাজা বিরাটের রাজধানীর এ স্থানটিতে ছদ্মবেশে বসবাস শুরু করে পাণ্ডবরা।

ধারণা করা হয়, সেসময় নির্বাসিত পাণ্ডবদের তৃষ্ণা মেটাতেই বৈদিক রাজা বিরাট এ দীঘিটি খনন করেছিলেন। আবার অনেকের মতে, রাজা বিরাট তার বিশাল গরুর পালের জন্য পানির ব্যবস্থা করতেই এ দীঘি খনন করেন এবং তার কন্যা বিন্নাবতীর নামে এর নাম দেন। স্বাধীনতার পরে ১৯৭৯ সালে এই দীঘিকে পর্যটনক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত করতে নীলফামারীর নামানুসারে বিন্না দীঘির পরিবর্তে এর নামকরণ করা হয় নীলসাগর।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password