ভ্রমণবন্ধু

ঝালকাঠি; ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক জনপদ - Hosted By

Not review yet
5
Add Review Viewed - 265

ঝালকাঠি জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।। ঠিক কোন সময় থেকে ঝালকাঠিতে মানব বসতি শুরু হয়েছিল তা সঠিকভাবে বলা কঠিন। তবে এই অঞ্চলের নাম দেখে বোঝা যায়, এখানে কৈবর্ত জেলে সম্প্রদায়ের লোকেরাই প্রথম বসবাস শুরু করেছিল।

প্রাচীনকালে কৈবর্ত জেলেদের বলা হতো ঝালো এবং তারা যেই স্থানে থাকতো তাদের সেই পাড়াকে বলা হতো ঝালোপাড়া। অনেকেই ধারণা করে থাকেন, এ ঝালোপাড়া থেকেই ঝালকাঠি নামের উত্থান ঘটেছে। অনেক আগে স্থানীয় লোকদের সঙ্গে মেহেদীপুরের জেলেদের ঝামেলা শুরু হলে তারা বাসন্ডা ও ধানহাটা খালের তীরে বসতি স্থাপন করে। পরে জেলে আর কাঠি মিলে জালকাঠি, অপভ্রংশে ঝালকাঠি নামকরণ করা হয়েছে। জেলে এবং জঙ্গলের কাঠি থেকেই মূলত উৎপত্তি হয়েছে ঝালকাঠির নাম। তবে ঝালকাঠি নামকরনের আগে এই জেলার প্রাচীন নাম ছিল মহারাজগঞ্জ।

নদী বন্দরের জন্য এই অঞ্চল সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ব্যবসায়িক গুরুত্ব বিবেচনা করে একে কলকাতার সাথে তুলনা করা হতো, আর বলা হতো দ্বিতীয় কলকাতা। এই অঞ্চলে ইউরোপীয়দের থেকে শুরু করে ডাচ, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ফরাসি; সকলেই ব্যবসা কেন্দ্র খুলেছিল। ১৯৮৪ সালে ঝালকাঠি জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কাঁঠালিয়া, রাজাপুর, নলছিটি ও ঝালকাঠি সদর এই চার উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি জেলা গঠিত।

লোকসংস্কৃতি এ জেলায় ভাটিয়ালী গান, ধুয়া গান, লোকগীতি, বারোমাসি গান, কবি গান, কীর্ত্তন, জারি গান, ছাদ পেটানোর গানের প্রচলন আছে। কথক নাচসহ নানা প্রকার নাচের প্রচলনও লক্ষ করা যায়।

এই জেলায় ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু শিল্প রয়েছে, যা আমাদের পুরো দেশ জুড়ে সমাদৃত। এখানকার শীতল পাটি শিল্পটি প্রায় ৩০০ বছর ধরে চলে আসছে। এটি ছাড়াও রয়েছে মৃৎ ও তাঁত শিল্প। তাছাড়া এখানাকার পানের বরজও বেশ নামকরা।

ঝালকাঠি জেলায় বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সেগুলো হল কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি, সুজাবাদ কেল্লা, গাবখান সেতু, সুরিচোরা জামে মসজিদ, ঘোষাল রাজবাড়ী, পুরাতন পৌরসভা ভবন ও মাদাবর মসজিদ।

এছাড়া অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে ধানসিঁড়ি নদী, রূপসা খাল, গালুয়া পাকা মসজিদ, নেছারাবাদ কমপ্লেক্স, পোনাবালিয়া মন্দির, সিদ্ধকাঠী জমিদার বাড়ি, নলছিটি পৌর ভবন, চায়না কবর, কামিনী রায়/ যামিনী সেনের বাড়ী ইত্যাদি।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকার সদরঘাট থেকে ঝালকাঠি ও বরিশালের উদ্দেশে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাত-আটটি বিলাসবহুল লঞ্চ ছেড়ে যায়। অনেকে বরিশাল নেমে লোকাল বাসে করেও ঝালকাঠি যান। সরাসরি বাসে করেও ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পারেন। ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ঝালকাঠির উদ্দেশে বিভিন্ন বাস ছাড়ে।

Listing Features

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password