ভ্রমণবন্ধু

চুয়াডাঙ্গা; প্রাচীন ইতিহাসের জেলা - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 304

খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা চুয়াডাঙ্গা। জেলাটি আমাদের দেশের পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত। দেশ ভাগের আগে এই জেলা পশ্চিম বঙ্গের নদিয়া জেলার অন্তর্গত ছিল পরে এটি বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত হয়। ১৯৭১ এর যুদ্ধে এই জেলার ভূমিকা ছিল বেশ জোরালো। বাংলাদেশ রেডক্রস যেটি বর্তমানে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, সেটি এই চুয়াডাঙ্গাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়। তাছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশের ডাক বিভাগ এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এই চুয়াডাঙ্গায় প্রথম প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

৭১’এর যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১০ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার চুয়াডাঙ্গাকে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করেছিল। তবে পরবর্তীতে নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানী মুজিবনগর এ সরিয়ে নেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা রেলস্টেশন বাংলাদেশের প্রথম রেলস্টেশন।

গ্রীক ঐতিহাসিকদের মতে এ এলাকাতেই বিখ্যাত গঙ্গারিডাই রাজ্য অবস্থিত ছিল। গাঙ্গেয় নামক একটি শহরও এ চুয়াডাঙ্গায় অবস্থিত ছিল বলে শোনা যায়। চুয়াডাঙ্গার নামকরণ সম্পর্কে কথিত আছে যে, এখানকার মল্লিক বংশের আদিপুরুষ চুঙ্গো মল্লিকের নামে এ জায়গার নাম চুয়াডাঙ্গা হয়েছে। ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে চুঙ্গো মল্লিক তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভারতের নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার সীমানার ইটেবাড়ি- মহারাজপুর গ্রাম থেকে মাথাভাঙ্গা নদীপথে এখানে এসে প্রথম বসতি গড়েন। ১৭৯৭ সালের এক রেকর্ডে এ জায়গার নাম চুঙ্গোডাঙ্গা উল্লেখ রয়েছে। ফারসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার সময় উচ্চারণের বিকৃতির কারণে বর্তমান চুয়াডাঙ্গা নামটা এসেছে।

চুয়াডাঙ্গা নামকরণের আরো দু’টি সম্ভাব্য কারণ প্রচলিত আছে। চুয়া < চয়া চুয়াডাঙ্গা হয়েছে।। ব্রিটিশ শাসনামলে এ এলাকাটি বেশ কিছু আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল; যেমন: ওয়াহাবী আন্দোলন (১৮৩১), ফরায়েজি আন্দোলন (১৮৩৮-৪৭), সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭), নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-৬০), খেলাফত আন্দোলন (১৯২০), স্বদেশী আন্দোলন (১৯০৬), অসহযোগ আন্দোলন, সত্যাগ্রহ আন্দোলন (১৯২০-৪০), ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) ইত্যাদি। ব্রিটিশ শাসনাধীনে চুয়াডাঙ্গা নদিয়া জেলার একটি উপজেলা ছিল। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের সময় কৃষ্ণনগর থানা (বর্তমানে নদিয়া জেলার অন্তর্গত) বাদে বাকি অংশ কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলার ইতিহাস অনেক প্রাচীন সেই সাথে অজ্ঞাত বলা চলে। ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অঞ্চল রাজশাহী জেলার সাথে যুক্ত ছিল। পরে ১৮২৮ সালে পাবনা জেলা গঠিত হলে এ অঞ্চল পাবনা জেলাভুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই মেহেরপুর মহকুমা, কুষ্টিয়া মহকুমা ও চুয়াডাঙ্গা মহকুমা নিয়ে কুষ্টিয়া জেলার মর্যাদা লাভ করে। পরে ১৯৮৪ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলায় উন্নীত হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর এই চারটি উপজেলা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা গঠিত।

এই জেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজের সাথে যুক্ত। ফুল ও আম উৎপাদনে চুয়াডাঙ্গা সব জেলার মধ্যে দ্বিতীয়। তাছাড়া ভুট্টা, পান, শাকসবজি, খেজুরের গুড় উৎপাদনে দেশ সেরা এই জেলা। এই জেলায় বেশ কিছু নদীও রয়েছে ভৈরব ও চিত্রা নদী তার মধ্যে অন্যতম।

এই জেলায় অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো: দুয়া বাওড়, মাজদিয়া স্থলবন্দর, রাখাল শাহ এর মাজার, শরৎচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত কাশীপুর জমিদার বাড়ী, তিয়রবিলা মসজিদ, আলমডাঙ্গা বধ্যভূমি, হজরত মালেক-উল-গাউস (রঃ) মাজার শরিফ, ঠাকুরপুর জামে মসজিদ, গড়াইটুপি অমরাবতী মেলা, শিয়েল পীরের মাজার, তালসারি, দর্শনা কেরু এন্ড কোং লিমিটেড, আট কবর ইত্যাদি।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password