ভ্রমণবন্ধু

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 163

কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম হচ্ছে কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশনের একটি সৌধ। যা পরিচিতি পেয়েছে চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি নামে। সবুজ পাতাবাহারের বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি এখন চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন স্পট। পাহাড়ের ভাঁজে অপরূপ সাজে দাঁড়িয়ে থাকা এ সমাধিস্থল দেখতে ভিড় করেন অনেক ভ্রমণপিপাসু।

ওয়ার সিমেন্ট্রির প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই প্রথম চোখে পড়বে সমাধিস্থলের মাঝখান বরাবর একটি দৃষ্টিনন্দন ক্রুশ চিহ্নিত বেদি। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা যুদ্ধ সমাধিতে চল্লিশ জাতের বৃক্ষরাজি রয়েছে। রয়েছে কয়েক শতাধিক দেশি-বিদেশি ফুলের গাছ। একই সময়ে আরো একটি সিমেট্রি করা হয় কুমিল্লার ময়নামতিতে।

ওয়ার সিমেট্রির প্রতিষ্ঠাকালে এলাকাটি বিশাল ধানক্ষেত ছিলো, যদিও বর্তমানে এটি বেশ উন্নত এলাকা এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। পঞ্চাশের দশকের প্রথমার্ধে নির্মিত এ সিমেট্রির বাইরের অংশে খোলা মাঠ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্যে প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত। তবে শীতকালীন মৌসুমে এ সময়সূচির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে থাকে। কোলাহলমুক্ত এই সমাধি এলাকায় দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও এখানে বসা নিষেধ।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এই সমাধিসেৌধ প্রতিষ্ঠা করে। সূচনালগ্নে এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রায় ৪০০টি সমাধি ছিলো। তবে বর্তমানে এখানে ৭৩১টি সমাধি বিদ্যমান যার ১৭টি অজানা ব্যক্তির। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাতীয় বিদেশী সৈন্যদের প্রায় ২০টি (১জন ওলন্দাজ এবং ১৯জন জাপানি) সমাধি বিদ্যমান। এছাড়াও এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) চট্টগ্রাম-বোম্বের একটি স্মারক বিদ্যমান।

যুদ্ধ চলাকালীন সময় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং ১৫২ নং ব্রিটিশ জেনারেল হাসপাতালের সুবিধার কারণে চট্টগ্রামে মিত্র বাহিনী চতুর্দশ সেনাবাহিনীর এই পথিকৃৎ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। হাসপাতালটি ডিসেম্বর ১৯৪৪ থেকে অক্টোবর ১৯৪৫ পর্যন্ত সক্রিয় ছিলো। প্রাথমিকভাবে এই সমাধিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪০০ মৃতদেহ সমাহিত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও যুদ্ধ শেষে অতিরিক্ত মৃতদেহ লুসাই, ঢাকা, খুলনা, যশোর, কক্সবাজার, ধোয়া পালং, দোহাজারি, রাঙ্গামাটি, পটিয়া এবং অন্যান্য অস্থায়ী সমাধিস্থান থেকে এই সমাধিস্থানে স্থানান্তর করা হয়।

যেভাবে যাবেন:

যেকোনো জেলা থেকে সহজেই চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য বাস সার্ভিস রয়েছে। আর ঢাকা থেকে বাস এবং ট্রেন যোগে সহজেই চট্টগ্রাম যেতে পারেন। চট্টগ্রাম শহড় থেকে ওয়ার সিমেট্রি বেশি একটু দূরে নয়। এই ওয়ার সিমেট্রিটি চট্টগ্রামের দামপাড়া এলাকায়, ১৯ নং বাদশা মিয়া চৌধুরী সড়কে অবস্থিত।

এটি মেডিকেল কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, চট্টেশ্বরী সড়কের চারুকলা ইনস্টিটিউটের কাছাকাছি এবং ফিনলে গেস্ট হাউসের নিকটবর্তী পাহাড়ি ঢালু আর সমতল ভূমিতে গড়ে উঠেছে। এটি শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password