ভ্রমণবন্ধু

কুমড়া পাতায় মুড়িয়ে কাচকি মাছের পাতুরি - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 83

কাচকি মাছের পাতুরি পাবনা জেলার জনপ্রিয় একটি খাবার  পাতায় মাছের পুড় দিয়ে রান্না করা হয় বলিই হয়তো একে পাতুরি বলা হয়। এই খাবারটি খুবই লোভনীয়, আর ছোট বড় সবারই খুব পছন্দের। স্বাদে, গন্ধে আর রসে অতুলনিয় এই দেশি খাবারটি। রান্নার জটিলতার জন্য সবাই সব সময় এই খাবারটি বানায় না। তবে একটু বিশেষ আয়োজন বা উপলক্ষ পেলেই বানিয়ে খাওয়া যায় এই সৌখিন খাবারটি।

খাল বিল বেশি থাকায় পাবনার হাট-বাজার সব জায়গাতেই ছোট মাছ পাওয়া যায়। আর কাচকি মাছ খুবই কমন একটি মাছ। আর মফস্বল শহর কিংবা গ্রামে প্রায় বাড়িতেই কুমড়া বা লাউ গাছ সহজলভ্য। তাই মন চাইলেই যে কেউ কাচকি মাছের পাতুড়ি বানিয়ে খেতে পারে। এখন অবশ্য সব জায়গাতেই কাচকি মাছ ও কুমড়া বা লাউ পাতা পাওয়া যায়। চাইলে আপনারাও ট্রাই করতে পারবেন। ভ্রমণবন্ধু দেশি খাবার পাঠকদের জন্য পাবনা থেকে এই রেসিপিটি পাঠিয়েছেন ফেরদৌসী কুইন।

কাচকি মাছের পাতুরি রান্নার উপকরণ:
কাচকি মাছ (১০০ গ্রাম),
কুমড়া পাতা (১০টি),
পেঁয়াজ কুচি (১ কাপ),
সরিষা ও কাঁচা মরিচ বাটা (১ চা চামচ সরিষার সাথে ৬-৭টি মরিচ বেটে নিন। ঝাল বেশি খেতে চাইলে আরো কয়েকটি কাঁচা মরিচ দিয়ে দিতে পারেন),
রসুন বাটা (২ চা চামচ),
কাঁচা মরিচ কুচি (৪-৫টি),
সরিষার তেল (১ টেবিল চামচ),
লবণ (পরিমাণমত)।

প্রস্তুত প্রণালি:

পেঁয়াজ কুচি, রসুন বাটা, সরিষা ও কাঁচা মরিচ বাটা, লবণ এবং সরিষার তেল একসাথে খুব ভালো করে চটকিয়ে নিন। এরপর কাচকি মাছ দিয়ে এই মিশ্রনের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। কাচকি মাছ খুব নরম, তাই হালকা ডলা দিয়ে মেশাতে হবে।

এবার কুমড়া পাতায় ২ থেকে ৩ চা চামচ মাছের মিশ্রন নিয়ে পাতা ভাজ করে টুথপিক দিয়ে আটকে দিন। একটি বাটিতে বেসন বা চালের গুঁড়া গুলিয়ে নিন। এবার পাতায় ভরা মাছের মিশ্রন বেসনে ডুবিয়ে গরম তেলে ভাজতে হবে। ভাজার সময় চুলার আচ মাঝারি রাখবেন। এতে ভেতরের মিশ্রনগুলোও খুব ভালোভাবে সিদ্ধ হবে। চুলা বেশি জোরে দেয়া থাকলে পাতা পুড়ে যাবে আর ভেতরের মিশ্রন কাচা থেকে যাবে। পাতার ওপরের বেসন লাল হয়ে আসলে নামিয়ে নিন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল মজাদার কাচকি মাছের পাতুরি।

অনান্য পাতুরি রান্নায় কলা পাতা অথবা অন্য কোন পাতা ব্যবহার করা হলে রান্নার পর পাতা ফেলে দিতে হয়। কিন্তু কাচকি মাছের পাতুরি রান্নায় কুমড়া পাতা ব্যবহার করলে পাতাসহ খেয়ে নেয়া যাবে। বড়ার মতো করে কামড়িয়ে খেলে প্রতি কামড়েই পাওয়া যাবে অমৃত স্বাদ। গরম ভাতের সাথে কাচকি মাছের পাতুরি হলে আর কিছুই লাগবে না।

জেনে নিন:

কাচকি মাছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই বললেই চলে। এই মাছ কাঁটাসহ চিবিয়ে খেতে হবে। এতে করে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। কাচকি মাছের অসম্পৃক্ত চর্বি উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে পারে। এছাড়া কাচকি মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’ থাকে; যা রাতকানা, অন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়াও আরো অনেক শারিরীক সমস্যা দূর করতে সক্ষম।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password