ভ্রমণবন্ধু

কক্স সাহেবের বাজার থেকে কক্সবাজার - Hosted By

Not review yet
2
Add Review Viewed - 232

চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল কক্সবাজার জেলা। এটি আমাদের দেশের সর্ব-দক্ষিণের জেলা।১৮৫৪ সালে কক্সবাজার থানা ও মহকুমা গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে কক্সবাজার জেলাকে টাউন কমিটি এবং ১৯৭২ সালে টাউন কমিটি বিলুপ্ত করে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়। সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে কক্সবাজার মহকুমা জেলায় রূপান্তরিত হয়। কক্সবাজার জেলা ৮টি উপজেলা ও ৮টি থানা নিয়ে গঠিত।

কক্সবাজার জেলার প্রাচীন নাম ছিল পালংকী। তবে একসময় এই জেলা প্যানোয়া নামেও পরিচিতি ছিল। ‘প্যানোয়া’ অর্থ হলুদ ফুল। অনেক আগে কক্সবাজারের চারপাশের এলাকা জুড়ে এই হলুদ ফুল ফুটে থাকতো। ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স এই স্থানে একটি বাজার স্থাপন করেন। এই কক্স সাহেবের বাজার থেকেই মূলত কক্সবাজার নামটির সূত্রপাত। ১৭৯৯ সালে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন হিরাম কক্স।

অষ্টম শতকের দিকে আরব ব্যবসায়ী ও ধর্ম প্রচারকগণ চট্টগ্রাম ও আকিব বন্দরে আসেন। আর এই দুই বন্দরের মাঝামাঝি কক্সবাজার এলাকা তখন আরবদের সংস্পর্শে আসে। পর্যায়ক্রমে এই জেলা শাসিত হয়েছে অনেকের দ্বারা। যেমন: নবম শতাব্দীতে হরিকেলার রাজা কান্তিদেব দ্বারা শাসিত হয়েছে, ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আরাকান রাজা সুলাত ইঙ্গ চন্দ্র দ্বারা এবং ১৬৬৬ সালে মুঘলরা দখল করে। পরবর্তীকালে কক্সবাজারে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চাষীদের মাঝে জমি বিতরণের এক উদারনীতি গ্রহন করে। যার ফলে চট্টগ্রাম ও আরাকানের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই এলাকায় আসা।

১৭৮৪ সালে বার্মা রাজ বোধাপায়া আরাকান দখল করেন। তখন প্রায় ১৩ হাজার আরাকানী এই বার্মারাজের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য কক্সবাজার থেকে পালিয়ে যায়। আর এদের পুনর্বাসন করার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হিরাম কক্সকে নিয়োগ দেয়। সেসময় প্রত্যেক পরিবারকে ২.৪ একর জমি এবং ছয় মাসের খাবার প্রদান করা হয়েছিল।

কক্সবাজার জেলা পাহাড়, সমুদ্র, বন আর উপত্যকা ইত্যাদি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের জন্যে অন্যান্য জেলা থেকে ভিন্ন। কক্সবাজার জেলার মানুষ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এই কক্সবাজারে। এটি আমাদের দেশের একটি বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র।

কক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে লাবণী পয়েন্ট কক্সবাজারের প্রধান সমুদ্র সৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়ে সৈকত সংলগ্ন এলাকায় আছে ছোট বড় অনেক দোকান যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

আর হিমছড়ি কক্সবাজারের ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। ভঙ্গুর পাহাড় আর ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি যাওয়ার পথে বামদিকে সবুজঘেরা পাহাড় আর ডানদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে। বর্ষার সময়ে হিমছড়ির ঝর্ণাকে অনেক বেশি জীবন্ত ও প্রাণবন্ত বলে মনে হয়। হিমছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় একটি রিসোর্ট আছে যেখান থেকে সাগরের দৃশ্য অপার্থিব মনে হয়। অর্থাৎ এখান থেকে সম্পূর্ণ সমুদ্র এক নজরে দেখা যায়। হিমছড়ির প্রধান আকর্ষণ এখানকার ক্রিসমাস ট্রি। সম্প্রতি হিমছড়িতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট।

দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ছাড়াও কক্সবাজারে সৈকত সংলগ্ন আরো অনেক দর্শনীয় এলাকা রয়েছে যা পর্যটকদের জন্য প্রধান আকর্ষণের বিষয়। সৈকত সংলগ্ন আকর্ষণীয় এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনানী সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। অভাবনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর এই সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজার থেকে রাস্তায় মাত্র আধঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। পরিষ্কার পানির জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে সমুদ্রস্নানের জন্য উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত।

কক্সবাজার শহর ও এর অদূরে অবস্থিত রামুতে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান বৌদ্ধ মন্দির। কক্সবাজার শহরে যে মন্দিরটি রয়েছে তাতে বেশ কিছু দুর্লভ বৌদ্ধ মূর্তি আছে। এই মন্দির ও মূর্তিগুলো পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ ও কেন্দ্রবিন্দু। মহেশখালী দ্বীপও ভ্রমণ প্রিয় মানুষের তালিকায় থাকে।

এছাড়া পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত অনেক হোটেল, বাংলাদেশ পর্যটন কেন্দ্র নির্মিত মোটেল ছাড়াও সৈকতের নিকটেই বিশটি পাঁচতারা হোটেল রয়েছে। এছাড়া এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password