ভ্রমণবন্ধু

ভূতুড়ে, রোমাঞ্চকর ও সৌন্দর্যে ভরপুর পশ্চিমবঙ্গের অযোধ্যা পাহাড় - Hosted By

Not review yet
1
Add Review Viewed - 57

বাংলাদেশীদের কাছে ইদানিং বিদেশ ভ্রমণ মানেই ভারত ভ্রমণ। সহজ করে বললে প্রথম পছন্দ হিসেবে ভারতের নামই আসে। যদিও ভারতে কাশ্মির, সিকিম, দিল্লির মতো জায়গায় সবাই যেতে চায় তবুও বাজেট, সময় ও রাস্তা সহজ হওয়ার কারণে কলকাতা সবার একটু বেশি পছন্দ। তার ওপর আবার সস্তায় কেনাকাটার অপার সুযোগ ঝুলছে নাকের ডগায়।

কলকাতায় ঘুরে দেখার মতো অসাধারণ সব স্থাপনা আর ঐতিহাসিক স্থানের পাশাপাশি আধুনিক অনেককিছুই রয়েছে। যেগুলো ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের বাকেট লিস্টে জায়গা করে নিয়েছে। তবে শুধু কলকাতা নয় পশ্চিমবঙ্গে সহজে ঘুরে দেখার মতো অনেক মজার মজার ট্যুর স্পট রয়েছে। তাদের কয়েকটি আবার বিভিন্ন কারণে বেশ বিখ্যাত, যেমন অযোধ্যা পাহাড়।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত এই অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল। কলকাতা থেকে দু’টি পথে অযোধ্যা পাহাড়ে যাওয়া যায়। একটি ঝালদা হয়ে, অন্যটি সিকরাবাদ হয়ে। এখানে একটি ফরেস্ট রেস্ট হাউসও আছে।

পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের নামতো সকলেরই জানা। কিন্তু পাহাড় লাগোয়া গ্রাম বেগুনকোদরের অপরূপ সৌন্দর্য অনেকেরই এখনো অজানা। আর এখানকার বেগুনকোদর স্টেশন ঘিরে রয়েছে অনেক রোমাঞ্চকর গল্প।

শোনা যায়, রাত বাড়লেই এখানে কারা যেন ফিসফিসিয়ে কথা বলে৷ দিনদুপুরেও স্বস্তি নেই৷ সুনসান এই স্টেশনে কাদের যেন পায়ের শব্দ, কে যেন গা ঘেঁষে চলে যায়। ভারতের পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের গা ঘেঁষে বেগুনকোদর স্টেশন ঘিরে এমন গা ছমছমে গল্প বহু পুরোনো।

ইন্টারনেট খুললেই চোখে পড়বে, সারা বিশ্বে ভূতুড়ে স্টেশনগুলির মধ্যে একেবারে প্রথম নম্বরে রয়েছে পুরুলিয়ার এই স্টেশনের নাম৷ ভূতের ভয়েই ১৯৬৭ সাল থেকে টানা চার দশক এই স্টেশনে কোনো ট্রেন চলেনি৷ তবে তৎকালীন রেলওয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান বাসুদেব আচারিয়ার উদ্যোগে ২০১০ সালে আবার খুলে দেয়া হয় বেগুনকোদর স্টেশন। স্টপেজ দেয়া হয় তিনটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের।

তবে ভূতের ভয় মন থেকে মুছে ফেলতে পারলেই উপভোগ করতে পারবেন বেগুনকোদর গ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য। এই স্টেশন থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেগুনকোদর গ্রাম। এই গ্রামে রয়েছে প্রায় ৪০ বিঘা বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে থাকা রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের অধীনস্থ সামগ্রিক এলাকা উন্নয়ন পর্ষদের (সিএডিসি) বিশাল খামার। একই ছাদের নিচে জৈবপদ্ধতিতে সবজি, মৎস্যচাষ থেকে শুরু করে পশু, পাখি পালনের বিশাল কর্মক্ষেত্র। পাহাড়ের সামনে অ্যালোভেরা ও ড্রাগন ফলের চাষ দেখে মন ভরে যায়। খামারের মধ্যেই রয়েছে ন্যায্যমূল্যে থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা।

পুরুলিয়া থেকে গাড়িতে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগুলোই বেগুনকোদর গ্রাম। এখানে পাহাড়ি রাস্তার গায়ে লেগে রয়েছে ছোট ছোট বেশ কিছু গ্রাম। বেগুনকোদর গ্রামের লাগোয়া অযোধ্যা পাহাড়ের কোলে মুরগুমা গ্রাম। এই গ্রামের পাশে সাহারজোড় নদীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক সুন্দর জলাধার বা ড্যাম। এখানে শান্ত লেকের পানিতে ছায়া ফেলে পাহাড়ের ছবি। চারপাশে শাল, পিয়ালের জঙ্গল। শহরের কোলাহল এড়িয়ে নিস্তব্ধ, নির্জন মুরগুমা ড্যামের ধারে বসে থাকলে সব অবসাদ যেন ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায়।

মুরগুমা ড্যাম থেকে অযোধ্যা হিলটপের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। ড্যামের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে রাস্তা এঁকেবেঁকে উঠে গিয়েছে অযোধ্যা হিলটপে। গাড়িতে যেতে যেতে পাহাড়ের কোলে থাকা গ্রামের ছবি দেখে অজানা সৌন্দর্যের শরিক হবেন। বামনি ফলস, সুইসাইডাল পয়েন্ট, পাখিপাহাড়, আপার-লোয়ার ড্যাম, তুর্গা ড্যাম দেখার পরে আর ফিরেই আসতে ইচ্ছা করবে না।

বেগুনকোদর বা অযোধ্যা টপ হিল, দু’টি ক্ষেত্রেই অতিথিশালায় দু’বেলা থাকে লোভনীয় খাবারের মেনু। জৈবচাষের সবজির রান্নার স্বাদ ভোলার নয়। অগ্রিম অর্ডার দিলে মেনুতে মিলবে কড়কনাথ, বনরাজা, কোয়েল, টার্কি বা এমু পাখির মাংস।

তবে অযোধ্যা পাহাড়ের বুকে ‘কুমারিকানন’ গ্রাম না দেখলে কিন্তু বেড়ানো অপূর্ণ থেকে যাবে। এখানেও থাকার জন্য রয়েছে সুন্দর তাঁবুর ব্যবস্থা। বসন্তকালে গোটা এলাকা জুড়ে পলাশফুলে লাল হয়ে যায়। তবে শুধু বসন্তে নয়, সারা বছরেই অযোধ্যা পাহাড় ঘুরে আসা যায়।

Tags

Add Reviews & Rate

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password