ভ্রমণবন্ধু

৫ মাস পর খুলছে কক্সবাজারের পর্যটন স্পট

কক্সবাজারের পর্যটন স্পট

৫ মাস পর খুলছে কক্সবাজারের পর্যটন স্পট

সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশও বিপর্যস্ত হয়েছে মহামারি করোনা ভাইরাসের ছোবলে। দেশের পর্যটন খাতকে অনেকটাই কাবু করে ফেলা ওই প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিস্তার এখনও রোধ করা যায়নি দেশে। তবে এরইমধ্যে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আগামী ১৭ আগস্ট থেকে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলো শর্ত-সাপেক্ষে সীমিত আকারে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (৫ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে শর্ত সাপেক্ষে সীমিত আকারে সমুদ্র সৈকত ও হোটেল-মোটেলসহ পৌর এলাকা কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত তাই জেলার অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলো আপাতত বন্ধ থাকবে।

বিনোদন কেন্দ্রগুলো চালু করতে নীতিমালা তৈরী করা হয়েছে। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে পর্যটন কেন্দ্রগুলো চালু করা যায় তার নির্দেশনা রয়েছে। আর নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের তদারকি থাকবে। পর্যটকদের তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমণ করতে হবে এই স্পটগুলোতে। কেউ যদি নির্দেশনা অমান্য করেন তার জন্য থাকছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও।

করোনার বিস্তার ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। আর গত ১৮ মার্চ থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও হোটেল-মোটেলসহ জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এর ফলে কক্সবাজারের শত শত হোটেল রেস্তোরাঁসহ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় ট্যুর অপারেটরদের কাজ। পর্যটন নির্ভর কক্সবাজারের হাজারো ব্যবসায়ীর ওপর পড়ে এর প্রভাব। এছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় কক্সবাজারকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়। যা ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল ছিলো। এরপর ১ জুলাই থেকে সীমিত আকারে জেলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট খোলার অনুমতি পাওয়া যায়।

এই করোনাকালে ইতিমধ্যে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে ঘুরতে আসেন। ব্যবসার জন্য অত্যন্ত পয়মন্ত সময় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাতে পর্যটকদের আগমন না হওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের এই জেলায় পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়ার ফলে আবারও সুসময় ফিরবে পর্যটন নির্ভর মানুষের। দীর্ঘ ৫ মাস পর প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে এতদিন ধরে শূণ্য পড়ে থাকা সমুদ্র সৈকতে, এটাই আশা এ অঞ্চলের মানুষের।

Tags

Add Comment

You must be logged in to post a comment.

Sign In ভ্রমণবন্ধু

For faster login or register use your social account.

or

Account details will be confirmed via email.

Reset Your Password